নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে: ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: আল-জাজিরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানেন, ‘আসল বস কে’। হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে।’

তবে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ব্যস্ত সফরসূচির কারণে আগামী সপ্তাহে বৈঠক হওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে বৈঠকটি পরের সপ্তাহে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানান নেতানিয়াহু। এ সময় শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকে বসার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হন তাঁরা।

আসন্ন এই বৈঠক হলে ফেব্রুয়ারির পর এটাই হবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রথম মুখোমুখি আলোচনা। ওই সময় হোয়াইট হাউসে তাঁদের বৈঠকের পরই ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই নেতার সম্পর্ক আগের মতো উষ্ণ নেই বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টার মতে, ইরানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর মূল্যায়ন সঠিক ছিল না। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে ঘিরে দুই নেতার কৌশলগত অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক স্বার্থেও পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠক নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সম্প্রতি জনমত জরিপে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন বলে দেখা গেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজে গতিপথ বদলেছে ৪ জাহাজ

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে আবারও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলেছে। জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ ফিরে গেছে এবং বাকি দুটি প্রণালির মধ্যবর্তী নৌপথে চলে গেছে।

গত জুনের শেষ দিকে ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের উদ্যোগে এ বিকল্প নৌপথ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে ইরান। এর আগে ওই করিডোর দিয়ে চলাচলকারী অন্তত দুটি জাহাজে হামলাও চালিয়েছিল তেহরান।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় নির্ধারিত ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যবস্থাপনার একক দায়িত্ব তাদের। পাশাপাশি সময়সীমা শেষ হলে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনাও করছে দেশটি।

উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে। তবে তা এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

সূত্র: এক্সিওস, আলজাজিরা ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Ad 300x250

সম্পর্কিত