সার না পেয়ে গুদাম ঘেরাও, পরে বিতরণ করল কৃষি অফিস

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

 ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে কৃষকদের গুদাম ঘেরাও। ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে কৃষকদের গুদাম ঘেরাও। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে গুদাম ঘেরাও করেছেন কৃষকেরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে ডিলারের গোডাউনের ৬০ বস্তা সার কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, রোববার সার দেওয়ার কথা থাকায় তাঁরা ডিলার পয়েন্টে যান। তাদের জানানো হয়, শুক্রবার ও শনিবার সার বিতরণ হয়ে গেছে, এখন আর সার দেওয়া হবে না। এতে উত্তেজিত কৃষকেরা ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করেন। পরে ডিলার পক্ষের সহযোগিতায় গোডাউন খুললে সেখানে ৬০ বস্তা সার পাওয়া যায়। তবে এ সময় ডিলার শহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডিলার শহিদুল ইসলামের জন্য ৬৪ টন সারের চাহিদা ছিল। এর মধ্যে তিনি প্রথম সপ্তাহে ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। তবে সার বিতরণ রেজিস্টারে কৃষকদের তথ্যের সঙ্গে গরমিল পাওয়া গেছে। বিতরণ করা সারের তালিকায় অল্প কিছু কৃষকের ফোন নম্বর উল্লেখ রয়েছে এবং সেগুলোর বেশির ভাগই বন্ধ।

ঘটনাস্থলে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল বলেন, ‘গোডাউনে যে সার ছিল, তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। সার বিতরণের রেজিস্টারে অনিয়মের অভিযোগও যাচাই করছি।’

ডিলার শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসে প্রাপ্ত ৫৮ টন সারই কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এর তালিকা রেজিস্টার রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চাহিদার চেয়ে কম সার পাওয়া গেলে আমার কী করার আছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা সেখানে দ্রুত কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী সেখানে আরও সার পাঠানো হচ্ছে।’

কালীগঞ্জ বাফার গোডাউনের ইনচার্জ অহিদুর রহমান বলেন, ইউরিয়া সারের মজুত, আমদানি ও বিতরণে কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম নেই। এ গোডাউন থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২৬ ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়ার চাহিদা ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন, গত বছরের একই সময়ে চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।’

এদিকে আমন মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন জেলার কৃষকেরা। বিশেষ করে ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়েও তাঁদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত