ঢাবি উপাচার্যের সাক্ষাৎকার/ডাকসুর এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন, শিক্ষক মূল্যায়ন করবে বিশ্ববিদ্যালয়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ডাকসুর এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন, শিক্ষক মূল্যায়ন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। স্ট্রিম গ্রাফিক
ডাকসুর এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন, শিক্ষক মূল্যায়ন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। স্ট্রিম গ্রাফিক

শিক্ষক মূল্যায়নে নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম চালু করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বিএম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে। সিন্ডিকেটে অনুমোদনও হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এই পদ্ধতি চালু হবে।

ডাকসুর আলাদাভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে স্ট্রিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন উপাচার্য।

এর আগে শিক্ষকদের পাঠদানের মান ও পেশাদারত্ব শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে মূল্যায়নের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি’ চালু করে ডাকসু। এজন্য ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার তত্ত্বাবধানে duevaluation.com নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়।

ডাকসুর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পরিচয় গোপন রেখে এই প্ল্যাটফর্মে ঢাবি শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। এজন্য শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ই-মেইল দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর তিনি নিজের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষকদের মূল্যায়নে কোর্সের কাঠামো ও পাঠ্যসূচি, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন, পেশাদারত্ব এবং সার্বিক সন্তুষ্টি ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষকদের রেটিং দেওয়া হচ্ছে।

ডাকসুর ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬ বিভাগের ২ হাজার ৪৫ শিক্ষককে দুই দিনে ৯ হাজার ৭৬৭ শিক্ষার্থী মূল্যায়ন করেছেন। এতে পাঁচের মধ্যে পাঁচ থেকে এক বা দুই রেটিংও পেয়েছেন কোনো কোনো শিক্ষক।

শিক্ষক মূল্যায়ন সার্বজনীন করা হবে

উপাচার্য অধ্যাপক এ বিএম ওবায়দুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে ২০২২ সালে প্রথম শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতির নীতিমালা করা হয়। ২০২৪ সালে এজন্য ‘লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এলএমএস) নামে একটি ওয়েবসাইট করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি শর্ত পূরণ করে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারতেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি হঠাৎ শুরু হয়নি। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, প্রকৌশল অনুষদ, কম্পিউটার সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিভাগে এরই মধ্যে এই ব্যবস্থা রয়েছে। এখন তা সবার জন্য চালু করা হবে।

ডাকসুর এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন

ডাকসুর আলাদাভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন কার্যক্রমের বিষয়ে জানতেন না উল্লেখ করে উপাচার্য এর এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, উপাচার্য হিসেবে, ডাকসুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে, আমার জ্ঞাতসারে এটি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি অনুসরণ না করে ডাকসু ‘দ্বৈত প্রশাসন’ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলে উপাচার্য বলেন, প্রশাসনকে বাদ দিয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন শুরু করলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হয়তো পছন্দ করতে পারে। তারা মনে করতে পারেন, শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয়ে আমরা মূল্যায়ন দেব। কিন্তু এটি কতটুকু যৌক্তিক।

অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলামের মতে, প্রশাসনের কাজ প্রশাসনকে করতে দেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্রশাসন নিয়মের মধ্যে থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবে। তবে ডাকসু বর্তমানে এমন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে, যেগুলো তাদের কার্যপরিধির মধ্যে পড়ে না। শিক্ষক মূল্যায়নও তেমন উদ্যোগ।

কতটা এগিয়েছে প্রশাসন

শিক্ষক মূল্যায়ন চালুর কাজ প্রশাসনিকভাবে অনেকটা এগিয়েছে জানিয়ে উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিভাগ, অনুষদ ও একাডেমিক কাউন্সিলের ধাপ পেরিয়ে এটি সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে। এটি চালুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলাদা প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন কীভাবে করা হয়, তা পর্যালোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানাতে একটি প্রসপেক্টাস (নিয়মাবলি) তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। উপাচার্য জানান, শিক্ষক মূল্যায়ন চালু থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথম বছরেই শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে জানানো হয় এবং একটি নিয়মাবলি দেওয়া হয়। আমরাও সেই ধরনের নিয়মাবলি তৈরি করছি। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এটি চালু হবে।

প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে উদ্যোগ বলছে ডাকসু

এখতিয়ার নিয়ে উপাচার্য প্রশ্ন তোলার পর ডাকসু নেতারা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘদিন আলোচনা করেও অগ্রগতি না হওয়ায় তারা স্বতন্ত্রভাবে এই কার্যক্রম চালু করেছেন। শিক্ষার্থীদের মতামত জানানোর প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি এবং শিক্ষকদের পাঠদানের মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

এর আগে ওয়েবসাইট উদ্বোধনের দিন তত্ত্বাবধানকারী উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার বলেন, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও সমাধান না হওয়ায় তারা ওয়েবসাইটটি চালু করেছেন।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এক বছরেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় ডাকসু নিজ উদ্যোগে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে।

জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে এক মাসের ট্রায়ালে রয়েছে। এ সময়ে পাওয়া প্রশ্ন ও আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করলে ডাকসু এটি বন্ধ করে দেবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত