মাদারীপুরে মিড-ডে মিল খেয়ে ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মাদারীপুর

শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে বিদ্যালয়ে ভিড় করেন অভিভাবকরা। সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুরে মিড-ডে মিল খেয়ে পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। এতে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, একজন চিকিৎসক ও একজন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রয়েছেন।

এছাড়া ঘটনার পর হাউসদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি জব্দ করেছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবার রিপন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অসুস্থ ১৭ শিক্ষার্থীকে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছয়জনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ তুলেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

অভিভাবক ও শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও পচা ডিম বিতরণ করা হচ্ছিল। অনেক রুটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল এবং সিদ্ধ ডিম থেকে পানি পড়ছিল। এসব খাবার খাওয়ার পরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষকরা জানিয়েছে, বুধবার সামান্তা ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কলা, পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণ পরই উপজেলার ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

মিড-ডে মিল প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় ঠিকাদার হিসেবে খাবার সরবরাহ করতেন রঞ্জু মুন্সি ও হান্নান কাজী নামে দুই ব্যক্তি। নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি ওই দুই ঠিকাদার।

পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন চৌধুরী বলেন, ‘বাচ্চাদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছিল। তখন আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি। এখন ওই নিম্নমানের রুটি খেয়ে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’

জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, নিম্নমানের খাবারের বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁকে অবহিত করেছেন। শিশুদের খাবার সরবরাহে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত