মেহেরপুরে মাটির নিচে পাওয়া ৯৬ স্থলমাইন নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মেহেরপুর

মেহেরপুরের গাংনীতে মাটি কাটার সময় উদ্ধার মাইন নিষ্ক্রিয়। স্ট্রিম ছবি

মেহেরপুরের গাংনীতে মাটি কাটার সময় উদ্ধার হওয়ার ৯৬টি অ্যান্টি-পার্সোনেল ও অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট সেগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।

এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আবুল মালিথার বাড়ির সংযোগ রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি কাটার সময় প্রথম মাইন সদৃশ বস্তুগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) শিমুল বিশ্বাস জানান, সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করে। পরে সেগুলো নিরাপদ দূরত্বে স্থানীয় মধুগাড়ী নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এসব মাইন পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। সেই হিসেবে প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক মাটির নিচে থাকার পরও মাইনগুলো সক্রিয় ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা জাদু শাহ বলেন, বেতবাড়িয়া গ্রামের কাঁদো মালিথা বাড়ির পাশের একটি উঁচু জায়গা থেকে মাটি কেটে সংযোগ সড়কে রাস্তায় ফেলা হয়েছিল। এ সময় মাটির নিচে ধাতব আকৃতির একটি বস্তু দেখতে পান তিনি। পরে মাটি খুঁড়ে আরও ৯টি একই ধরনের বস্তু পাওয়া যায়। এছাড়া পাঁচটি খালি বক্সও উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে গাংনী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দল না আসা পর্যন্ত ঘটনাস্থল নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়।

এদিকে, আজ সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে মাইনগুলো উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলে। মেজর তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের বোম ডিসপোজাল ইউনিট এ অভিযান পরিচালনা করে। তিনি জানান, বোমাগুলো শক্তিশালী। ৯৬টি স্থল মাইনের মধ্যে ৭৯টি মানববিধ্বংসী ও ১৯টি ট্যাংক বিধ্বংসী ছিল।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত