কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সর্বাত্মক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ২০: ৪৩
গোলটেবিল বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

অলিগার্কনির্ভর অর্থনীতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণমুখী রাষ্ট্র এবং মানবিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে সর্বাত্মক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিকীকরণ কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি বর্তমান সরকারের মূল দর্শন। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক মূলধারার বাইরে থাকা গ্রামীণ কামার, কুমার, তাঁতি ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূল প্রবাহে যুক্ত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমির বিকাশে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে। থিয়েটার, সংস্কৃতি, সংগীত, চিত্রকলা ও আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারির মতো খাতকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করতে নতুন প্রকল্প ও তহবিল গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা ছাড়াও দেশের বড় শহরগুলোতে ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও সংগীতকে বৈশ্বিক বাজারে ব্র্যান্ডিং ও প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সফট পাওয়ার বৃদ্ধি করা হবে।”

ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে সরকার বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত চার্জ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, আগে ব্যবসা বা প্রকল্প বাস্তবায়নে অসংখ্য অনুমোদনের প্রয়োজন হলেও তা কমিয়ে ১৩টিতে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুরো অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব ধরনের নাগরিকসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ প্রতিদিন মনিটরিং করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণের বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার, ফান্ড ম্যানেজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কর্পোরেশন (আইএফসি) থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ‘বাংলাদেশ বন্ড’ ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে সুদের হার ৬ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

করব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, কোকাকোলা, পেপসি ও বড় বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোর প্রকৃত বাজার অংশীদারিত্ব যাচাই করে ন্যায্য কর আদায় নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ী ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের জন্য সহজ ‘ফ্ল্যাট রেট’ করব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কর কর্মকর্তাদের হয়রানি কমে।

দেশবাসীকে আগামী দুই বছর ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নয়, বরং সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে তা নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক শওকত হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন হোসেন জিল্লুর রহমান, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সেলিম জাহান, সিমিন রহমান, মাহবুব উর রহমান, মাসরুর রিয়াজ, মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, মোহাম্মদ হাতেম, গোলাম মাওলা এবং ইমরান হাসান।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত