রাষ্ট্রীয় ‘থিংক ট্যাঙ্ক’ এবং ক্ষেত্রবিশেষে ‘ডিপ স্টেট’ কেন জরুরি?

লেখা:
লেখা:
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান

স্ট্রিম গ্রাফিক্স

একটি আধুনিক রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে এখন শুধু নির্বাচিত সরকার বা আমলাতন্ত্রই যথেষ্ট নয়। এর জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা, গভীর নীতি-বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনায় দক্ষ একটি সংগঠিত ‘রাষ্ট্রীয় মস্তিষ্ক’। এই মস্তিষ্কের একটি দৃশ্যমান অংশ হলো উন্মুক্ত ও গবেষণাধর্মী রাষ্ট্রীয় থিংক ট্যাঙ্ক। অন্যদিকে, এর আরেকটি অংশ অনেক সময় ‘ডিপ স্টেট’ বা রাষ্ট্রের ভেতরের অদৃশ্য ক্ষমতাকাঠামো হিসেবে কাজ করে। এই দুটির মধ্যে কোনটি প্রয়োজনীয়, কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কীভাবে এদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়—আজ সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ, রাষ্ট্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং জনগণের প্রত্যাশা মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া উৎপাদন, চাহিদা, ভোগ, আমদানি-রপ্তানি, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, সমাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলোতে নিখুঁত পর্যালোচনার প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে অতীত ও বর্তমানকে বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরিতে রাষ্ট্রীয় ‘থিংক ট্যাঙ্ক’ এবং ‘ডিপ স্টেট’ সময়োপযোগী কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

থিংক ট্যাঙ্ক বনাম ডিপ স্টেট: আসলে কী?

রাষ্ট্রীয় থিংক ট্যাঙ্ক হলো মূলত গবেষণা ও নীতি-বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এখানে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি বা জলবায়ুর মতো রাষ্ট্র পরিচালনার সার্বিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা তথ্য-প্রমাণভিত্তিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

অন্যদিকে, ‘ডিপ স্টেট’ বা গভীর ক্ষমতাবলয় বলতে এমন এক অদৃশ্য ও অননুমোদিত নেটওয়ার্ককে বোঝায়, যারা দৃশ্যমান ক্ষমতাকাঠামোর বাইরে থেকে রাষ্ট্রের নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব খাটায়। এই বলয়ের মধ্যে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং অনেক সময় বিদেশি স্বার্থের জটিল সমন্বয় থাকে। সোজা কথায়, ডিপ স্টেট হলো একটি অতি গোপনীয় ও অননুমোদিত নেটওয়ার্ক, যা অক্টোপাসের মতো রাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও স্বাধীন কর্মক্ষমতাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় থিংক ট্যাঙ্ক বা ডিপ স্টেটের মতো একটি ‘স্থায়ী মস্তিষ্ক’ থাকা জরুরি। কারণ সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলালেও রাষ্ট্রের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো বদলায় না। নিরাপত্তা, অর্থনীতি, জলবায়ু, জনসংখ্যা এবং বৈদেশিক সম্পর্কের মতো বড় ইস্যুগুলো বছরের পর বছর, এমনকি দশকের পর দশক একই থাকে।

অর্থাৎ, থিংক ট্যাঙ্ক হলো রাষ্ট্রের জন্য বৈধ, প্রাতিষ্ঠানিক ও জবাবদিহিমূলক ‘বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা’। আর ডিপ স্টেট হলো গোপন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও জবাবদিহিহীন ‘ক্ষমতা-নেটওয়ার্ক’। এই দুটির চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও, রাষ্ট্রের গভীরে দুটোই ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

কেন রাষ্ট্রের ‘স্থায়ী মস্তিষ্ক’ প্রয়োজন?

রাষ্ট্র পরিচালনায় থিংক ট্যাঙ্ক বা ডিপ স্টেটের মতো একটি ‘স্থায়ী মস্তিষ্ক’ থাকা জরুরি। কারণ সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলালেও রাষ্ট্রের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো বদলায় না। নিরাপত্তা, অর্থনীতি, জলবায়ু, জনসংখ্যা এবং বৈদেশিক সম্পর্কের মতো বড় ইস্যুগুলো বছরের পর বছর, এমনকি দশকের পর দশক একই থাকে।

এসব বিষয়ে ধারাবাহিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি স্থায়ী ও পেশাদার চিন্তাশক্তির প্রয়োজন। এটি না থাকলে প্রতিটি নতুন সরকারকেই একেবারে শূন্য থেকে কাজ শুরু করতে হয়। এর ফলে নীতিতে অস্থিরতা দেখা দেয়, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং নাগরিকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়।

দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, দুর্নীতি ও বৈষম্য হ্রাস এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তাই একটি দৃশ্যমান, প্রাতিষ্ঠানিক, গবেষণানির্ভর ও জবাবদিহিমূলক ‘স্থায়ী মস্তিষ্ক’ অপরিহার্য। এটি এমন একটি কাঠামো হবে, যেখানে নির্বাচিত সরকার, দক্ষ আমলাতন্ত্র, স্বাধীন থিংক-ট্যাঙ্ক এবং শক্তিশালী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করবে। এর ফলে রাষ্ট্র কেবল দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল না থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি রণকৌশল নিয়ে পরিচালিত হতে পারবে।

থিংক ট্যাঙ্ক ও ডিপ স্টেট না থাকলে কী হয়?

একটি শক্তিশালী ও গবেষণানির্ভর থিংক ট্যাঙ্ক না থাকলে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া প্রধানত তিনটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়: (এক). তথ্য-বিশ্লেষণের বদলে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক স্বার্থ ও লবিংয়ের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। (দুই). প্রতিটি সরকার কেবল নিজেদের মেয়াদের কথা মাথায় রেখেই নীতি প্রণয়ন করে। (তিন). রাষ্ট্রে বড় ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটে। কারণ, অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক 'নীতি-স্মৃতিভাণ্ডার' রাষ্ট্রের থাকে না।

অন্যদিকে, ডিপ স্টেট বা গভীর ক্ষমতাবলয় গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। কিন্তু আবার রাষ্ট্রের কিছু ‘স্থায়ী কাঠামো’ না থাকলেও নীতির ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। এ ক্ষেত্রে একটি মজার বৈপরীত্য আছে। রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা যদি স্বৈরতান্ত্রিক হয় এবং ডিপ স্টেট যদি সেই স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করে, তবে তা কখনো কখনো জনগণের পক্ষে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র যদি গণতান্ত্রিক হয় এবং ডিপ স্টেট সেই গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, তবে তা সরাসরি জনগণের ক্ষমতা হরণ করে।

সাধারণত ডিপ স্টেট দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে: ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ এবং ‘বাণিজ্যিক আধিপত্য’। অনেক সময় জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তারা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।

বাস্তবতা হলো, সব রাষ্ট্রেই কিছু ‘গভীর কাঠামো’ (যেমন: নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থা, কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশেষজ্ঞ কমিটি) থাকে এবং থাকা প্রয়োজন। এগুলো যদি আইনের অধীন, স্বচ্ছ এবং সংসদীয় জবাবদিহির আওতায় থাকে, তবে তাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক ডিপ স্টেট’ বলা যায়। এটি রাষ্ট্রকে একটি শক্ত ধারাবাহিকতা দেয়। কিন্তু এই কাঠামো যদি অননুমোদিত, গোপন ও স্বার্থান্ধ হয়, তখন তা ‘গণতন্ত্রের অদৃশ্য শত্রু’তে পরিণত হয়।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা: শক্তি ও সংকট

বাংলাদেশে ‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচনা মূলত কয়েকটি বিষয়কে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের বিভিন্ন বিদেশি চুক্তি, নির্বাচন-পরিস্থিতি, নিরাপত্তা-ব্যবস্থা এবং বিদেশি প্রভাব। ওয়ান-ইলেভেন এবং এর পরবর্তী সময়কে উদাহরণ হিসেবে টেনে অনেকেই মনে করেন, ডিপ স্টেটকে অকার্যকর না করা পর্যন্ত দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এবং পরবর্তীতে সংস্কারের জন্য জনগণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমাদের এই শিক্ষাই দেয়।

অন্যদিকে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্বলতা, অকার্যকর থিংক ট্যাঙ্ক এবং ভঙ্গুর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোই মূলত ডিপ স্টেটকে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি ‘ডিপ স্টেট রাখব কি রাখব না’—তা নয়। বরং রাষ্ট্রের এই গভীর কাঠামোকে কীভাবে আইনের অধীনে এনে একটি থিংক ট্যাঙ্ক-ধর্মী ও জবাবদিহিমূলক বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোতে রূপান্তর করা যায়, এখন সেটি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

আমাদের দেশে একটি প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি আছে। যেমন: পূর্ববর্তী সরকার খাল খনন কর্মসূচি বা কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো কোনো ভালো উদ্যোগ চালু করলেও, নতুন সরকার এসে তা বন্ধ করে দেয়। এমন মানসিকতা দেশ ও জনগণের জন্য ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনে। এটি শুধু উন্নয়নকে দলীয় স্বার্থের কাছে জিম্মি করে না; বরং জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট করে এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণকে প্রতিহিংসার রাজনীতির দিকে ঠেলে দেয়।

কীভাবে ভারসাম্য টানা যায়?

রাষ্ট্রীয় থিংক ট্যাঙ্ককে শক্তিশালী করা এবং ডিপ স্টেটকে আইনের ভেতরে আনা—এই দুই প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি সুষ্ঠু ভারসাম্য থাকা জরুরি। এটি অর্জন করতে হলে ক্ষমতা, জবাবদিহি এবং জ্ঞানের উৎসকে একই সঙ্গে পুনর্গঠন করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় থিংক ট্যাঙ্ককে শক্তিশালী করা এবং ডিপ স্টেটকে আইনের ভেতরে আনা—এই দুই প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি সুষ্ঠু ভারসাম্য থাকা জরুরি। এটি অর্জন করতে হলে ক্ষমতা, জবাবদিহি এবং জ্ঞানের উৎসকে একই সঙ্গে পুনর্গঠন করতে হবে।

এর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ও সংসদ-নিয়ন্ত্রিত একটি ‘জাতীয় নীতি-গবেষণা কাউন্সিল’ গঠন করা। এই কাউন্সিলে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এর ফলে নতুন নীতি উদ্ভাবনের কাজ শুধু সরকারি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং গবেষণানির্ভর মতামতগুলো সরাসরি সংসদীয় আলোচনায় উঠে আসার সুযোগ পাবে।

একই সঙ্গে, নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দা কাঠামোগুলোর ওপর শক্তিশালী সংসদীয় নজরদারি কমিটি গঠন করতে হবে। আইনের মাধ্যমে এই কমিটির ম্যান্ডেট, তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তদন্তের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিতে হবে। এতে করে এই সংস্থাগুলো রাষ্ট্রের ‘গভীর কাঠামো’ হিসেবে কাজ করলেও, নীতি প্রণয়ন ও আর্থিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে তারা জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারবে না।

ভারসাম্য রক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিআইডিএস-এর মতো বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের থিংক ট্যাঙ্কে রূপান্তর করা। এই প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কেবল সরকারি ‘প্রকল্প-দপ্তর’ হয়ে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন স্বাধীন বোর্ড গঠন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ, গবেষণার পূর্ণ স্বাধীনতা, নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সরকার-বহির্ভূত অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো।

পাশাপাশি, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে নিজস্ব থিংক ট্যাঙ্ক বা গবেষণা সেল গড়ে তোলা উচিত। এতে তারা নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি, আইন সংশোধন এবং নীতি প্রস্তাব প্রণয়নে তথ্যনির্ভর ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগাতে পারবে। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন নির্বাচিত নেতাদের সামনে নীতি নির্ধারণের অনেকগুলো বিকল্প তৈরি হবে; অন্যদিকে ডিপ স্টেটের মতো অদৃশ্য কাঠামোর ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। ফলে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।

গোপন নয়, দৃশ্যমান ‘ডিপ স্টেট’ দরকার

বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রই পুরোপুরি ‘ডিপ স্টেট-মুক্ত’ নয়। তবে মূল প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্রের এই গভীর কাঠামোটি কি গোপন, অনিয়ন্ত্রিত ও স্বার্থান্ধ? নাকি এটি আইনের অধীন, দৃশ্যমান এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আজ একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় থিংক ট্যাঙ্ক অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি হবে গবেষণানির্ভর এবং যেকোনো সংঘাত বা ঝুঁকি আগে থেকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই নিছক নির্বাচনি ভাবনার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে, ডিপ স্টেটধর্মী অদৃশ্য কাঠামোকে আইনের ভেতরে এনে জবাবদিহিমূলক করাও সমান জরুরি। এটি যেন কোনোভাবেই জনগণের সার্বভৌমত্বকে গ্রাস করতে না পারে। বরং এটি যেন সাংবিধানিক গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার একটি শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই দুটির মধ্যকার সঠিক ভারসাম্যই নির্ধারণ করে দেবে—রাষ্ট্রের ভেতরের ‘গভীর শক্তি’ কি জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে, নাকি জনগণের কল্যাণেই কাজ করবে।

ড. মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান: আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক সুশাসন বিশ্লেষক; পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো, ইউরোপিয়ান সায়েন্টিফিক ইন্সটিটিউট, স্পেন; শিক্ষক, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত