চিনিতে লোকসান, তবু কেরুর রেকর্ড মুনাফা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৩০
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ফটক। সংগৃহীত ছবি
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ফটক। সংগৃহীত ছবি

চিনি উৎপাদনে বরাবরের মতোই লোকসান গুনেছে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। যদিও গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় ডিস্টিলারি ও অন্যান্য ইউনিট মুনাফার রেকর্ড গড়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু অ্যালকোহল থেকেই এসেছে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা। বিপরীতে চিনি কারখানায় লোকসান গুনতে হয়েছে ৬০ কোটি টাকার বেশি। এতে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে বেকর্ড ১৬৫ কোটি টাকারও বেশি।

এর পাশাপাশি বায়ো-ফার্টিলাইজার ইউনিটে সম্ভাব্য লাভ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, বাণিজ্যিক খামারে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার টাকা, আকন্দবাড়ীয়া ইউনিটে ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা লাভ দেখানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ১৯৩৮ সালে স্থাপিত কেরু চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। চিনি উৎপাদনে লোকসান থাকলেও অন্যান্য ইউনিটের আয়ে দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, সব ইউনিট মিলিয়ে কেরুর নিট মুনাফা ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। যা স্মরণকালের রেকর্ড। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরু মুনাফা করেছিল ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ টাকা। সেটি তখন প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল।

চিনিতে প্রতিবছর লোকসান হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আখচাষি ও শ্রমিকেরা। প্রতিবারের মতো এবারও কেরুর মুনাফার সবচেয়ে বড় উৎস ডিস্টিলারি ইউনিট। ‘বিলেতি’ এবং দেশীয় মদ উৎপাদন বিক্রি করে এ ইউনিটে লাভ দেখানো হয়েছে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা।

কেরুতে উচ্চমুখী মুনাফা। স্ট্রিম গ্রাফিক
কেরুতে উচ্চমুখী মুনাফা। স্ট্রিম গ্রাফিক

কেরু চিনিকলের শ্রমিক খবির উদ্দিন বলেন, ‘ডিস্টিলারিতে প্রতিবার লাভ হয় এটা আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের খবর। পুরোনো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করে উৎপাদন খরচ কমানো গেলে চিনিতেও লাভ করা সম্ভব বলে মনে করি।’

আরেক শ্রমিক আরুক মিয়া বলেন, ‘চিনি কারখানার সঙ্গে আমাদের অনেক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা জড়িত। কারখানাটি লাভজনক হলে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধাও আরও ভালো হবে। তাই দ্রুত আধুনিকায়নের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো দরকার।’

কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান বলেন, ‘কেরু চিনিকলটি আধুনিক করার জন্য বিএমআরই প্রকল্পটি চালু করতে পারলে আখের উৎপাদন বাড়বে। তখন আখ মাড়াইতে আধুনিকের ছোঁয়া আসবে। সেইসঙ্গে আখ চাষ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। আসা করছি পরবর্তী মৌসুম থেকে আখ উৎপাদন বাড়বে। এতে চিনির লোকসান কমতে শুরু করবে।’

কেরুর জৈব সার কারখানা, বাণিজ্যিক খামার, ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটের মুনাফা উল্লেখযোগ্য। তবে চিনি আগামীতে চিনি খাতের লোকসান আরও কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যহত রয়েছে বলে দাবি কেরু কর্তৃপক্ষের।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বির হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘বিগত বছরের তুলনায় এ বছর কেরুর বিভিন্ন ইউনিট থেকে বেশি মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। চিনি শিল্পের লোকসানও কিছুটা কমেছে। আগামীতে লোকসান আরও কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত