মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: ৩৩৮ এজেন্সিকে সিন্ডিকেট আখ্যা, প্রত্যাখ্যান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ২২: ০১
১০ সংগঠনের যৌথ সভা, ৩৩৮ এজেন্সিকে সিন্ডিকেট অ্যাখা, প্রত্যাখানের দাবি। ছবি: সংগৃহীত
১০ সংগঠনের যৌথ সভা, ৩৩৮ এজেন্সিকে সিন্ডিকেট অ্যাখা, প্রত্যাখানের দাবি। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য অনুমোদিত ৩৩৮ এজেন্সিকে সিন্ডিকেট আখ্যা দিয়েছে অভিবাসন কর্মীদের নিয়ে কাজ করা ১০টি সংগঠন। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের কনফারেন্স রুমে এক যৌথ সভায় সংগঠনগুলোর নেতারা এ ঘোষণা দেন।

এজেন্সিগুলোর সিন্ডিকেট প্রত্যাখ্যান করে সব বৈধ এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে সরকার ঘোষিত বিশেষ ১০ হাজার কর্মীর স্বাধীন যাচাইয়ের দাবি জানান।

এসব দাবি জানানো ১০ সংগঠন হলো—সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ, উইথনেস ফাউন্ডেশন, ওকাপ, আইএমএ রিসার্চ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন, অনির্বাণ, শিল্ড, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন, পল্লী সোসাইটি ও কক্সবাজার প্রবাসী ফোরাম।

সভায় উইথনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, ‘গত ২৯ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে মোট ৩৩৮টি এজেন্সি কাজ করবে। এর মধ্যে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেল বাদে ২৫টি সরাসরি, ৩১২টি সহযোগী হিসেবে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, সংখ্যা ২৫ হোক বা ৩৩৮, কাঠামো একই থেকে যায়। নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা মুষ্টিমেয় কিছু হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। আর সেই মূল্য শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করেন শ্রমিক নিজে।’

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই এই প্র্যাকটিস করেছে। নেপাল, পাকিস্তান বা মিয়ানমারের ক্ষেত্রে তা করেনি। সুতরাং যে চুক্তিতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই প্র্যাকটিস করেছে, আমরা মনে করি এই মুহূর্তে এটি বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত নয়। চুক্তিটি অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।’

পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, ‘যেকোনো সংখ্যার সিন্ডিকেট বা সাব-সিন্ডিকেট প্রত্যাখ্যান, সব বৈধ এজেন্সির জন্য সমান ও উন্মুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সিন্ডিকেটে জড়িত এজেন্সি বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ঘোষিত জিরো-কস্ট নিয়োগ স্বাধীনভাবে যাচাই করে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় সম্প্রসারণ করতে হবে। আটকে পড়া ১৬ হাজার ৯৭০ জন শ্রমিকের সম্পূর্ণ টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। মালয়েশিয়ায় ইতোমধ্যে থাকা শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মর্যাদা ও সহজ অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ইশরাত শামীমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের উপপরিচালক প্রবীর কুমার বিশ্বাস, আইএমএ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আনিসুর রহমান খান ও ওকাপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুব ইলাহী প্রমুখ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত