ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, অবাধে বিক্রি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ভোলা

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৩৪
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার। ছবি: সংগৃহীত

ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা। ঘাটে হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে ভোলার দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল মাছঘাট, চৌকিঘাট, সদর উপজেলার ভোলারখাল ও ইলিশা মাছঘাটে দেখা যায় একের পর এক নৌকা ভিড়ছে। নৌকা থেকে নামানো ইলিশ দ্রুতই আড়তদার ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চলছে এসব কার্যক্রম।

মৎস্য বিভাগ মার্চ ও এপ্রিলেে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। এই সময় সব ধরনের মাছ ধরা, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা থেকে মনপুরার চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনার ৯০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

তবে বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে যে আকারের ইলিশ এক হালি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ৬ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পহেলা বৈশাখকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার। ছবি: সংগৃহীত
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার। ছবি: সংগৃহীত

দৌলতখান পাতারখাল মাছঘাটে কথা হয় কয়েকজন জেলের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে বলেন, নিষেধাজ্ঞা আছে জানি, কিন্তু পেট তো মানে না। বৈশাখে মাছের দাম বেশি, এই সময় না ধরলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।

পাতারখাল মাছঘাটের আড়তদার ইউসুফ মুন্সী বলেন, ‘চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। ক্রেতারা নিজেরাই বেশি দামে কিনছেন। আমরা শুধু বিক্রি করছি।’

সদর উপজেলার বাসিন্দা আফজাল হোসেন ও কামরুল ইসলাম জানান, পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার জন্য চড়া দামেও অনেকে ইলিশ কিনছেন। পরিবারের নারী ও শিশুরা বায়না ধরে পান্তা ইলিশ খাওয়ার জন্য। তাই একটা দিনের জন্য দামের দিকে না তাকিয়ে মাছ পাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে ইলিশ খাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা ইলিশ খেতে উৎসাহিত করতে চাই না। এই সময় ইলিশ ধরা বন্ধ না হলে, এর প্রজনন ব্যাহত হবে এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে।’

বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা চলছে, কেউ আইন অমান্য করে মাছ ধরলে বা বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দ্বীপ জেলা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৩৩ শতাংশ আসে। ফলে এই অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় পর্যায়েও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত