জুনে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার কারণ জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ২০: ১৫
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সংগৃহীত ছবি

মিটারের কারিগরি ত্রুটির কারণে নয়, বরং গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রধান কারণ নতুন কার্যকর হওয়া ট্যারিফ (বিদ্যুতের মূল্যহার) এবং গরমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ।

লিখিত বক্তব্যে সচিব বলেন, সম্প্রতি জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে তা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে এবং অধিকাংশ অভিযোগ ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। কোথাও দায়িত্বে অবহেলা বা গ্রাহক হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিল বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে সচিব বলেন, বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ায় একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জুন মাসে গ্রাহকদের মোট ব্যয় বেড়েছে। ফলে প্রিপেইড গ্রাহকদের আগের তুলনায় বেশি ঘন ঘন রিচার্জ করতে হচ্ছে, যা অনেকের কাছে সাময়িকভাবে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মিটারগুলো আগের মতোই একই প্রযুক্তিগত ও গাণিতিক পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিমাপ করছে। তাই নতুন ট্যারিফ কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ মিটারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার সুযোগ নেই। বিল বৃদ্ধির প্রধান কারণ নতুন ট্যারিফের প্রভাব। এ ছাড়া প্রিপেইড গ্রাহকদের অনেকেই মাসের শেষ দিকে এসে ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় সর্বোচ্চ ট্যারিফ স্তরে পৌঁছে যাচ্ছেন এবং ওই হারে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

মিরানা মাহরুখ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, তীব্র গরম এবং বিভিন্ন কারণে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরসহ বৈদ্যুতিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও ফ্রিজ, টেলিভিশন, রাইস কুকার ও ইলেকট্রিক কেটলির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্য দূর করার বিষয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, অতীতের অবকাঠামোগত ও সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু বৈষম্য থাকলেও তা ধাপে ধাপে দূর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সঞ্চালন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নের মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় সম্পাদিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চাইলে এসব চুক্তি রাতারাতি বাতিল করতে পারছে না। কারণ, সেগুলো আইনগতভাবে বলবৎ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে যেখানে সম্ভব, চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একতরফাভাবে কোনো চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত