বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বৈঠক: নিরাপত্তা সহায়তা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে অঙ্গীকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৫২
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন, ছবি: পিআইডি

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দুই দেশের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরদিকে ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত জানুয়ারিতে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে আগ্রহী।

তিনি ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বহুমুখী অংশীদারত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিথিল করার অনুরোধ জানান।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতিমধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।

এ সময় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ ভিয়েতনামে সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির আহ্বান জানান। এছাড়া বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগেরও আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশের আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জন এবং আরসিইপি সদস্যপদ লাভে ভিয়েতনামের জোরালো সমর্থন কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জবাবে ভিয়েতনাম পক্ষ বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করে ভিয়েতনামের প্রতিনিধি দল।

Ad 300x250

সম্পর্কিত