সরগরম সুলতানপুর আমের বাজার, ৫০০ কোটি টাকা বিক্রির লক্ষ্য

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা

বড়বাজারে আমের পসরা সাজিয়েছেন চাষিরা

সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজার এখন ক্রেতাবিক্রেতার দর কষাকষিতে সরগরম। প্রতিদিনই ভোর থেকেই ভ্যান, নছিমন, মিনি পিকআপ ও ট্রাকে করে আম এনে সারি সারি ঝুঁড়ি ও ককশিটে সাজিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। দুপুর পর্যন্ত কেনাবেচা চলছে জেলা সদরের অন্যতম বড় এই বাজারে। দূরদুরান্ত থেকে ব্যাপারীরা আসছেন স্থানীয়ভাবে ‘নিউ মার্কেট’ নামে এই বাজারে।

দেশের আমের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জের আম এখনও পরিপক্ক না হলেও বাজারে এসে গেছে সাতক্ষীরার এই সুস্বাদু ফল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে সাতক্ষীরায় এবার আম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।

জেলার বেশিরভাগ আমই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায় এই বড়বাজার থেকে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার বড় বড় বাজার থেকেও আম কেনেন পাইকাররা। সবমিলিয়ে চলতি মৌসুমে জেলা থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের আশা করছেন আম চাষী, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে চলতি মৌসুম সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আম পাড়া কার্যক্রমের উদ্বোধনের দিনের ছবি
আম পাড়া কার্যক্রমের উদ্বোধনের দিনের ছবি

গত ৫ মে থেকে সাতক্ষীরায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আম পাড়ার মৌসুম। জেলার বিভিন্ন বাগানে প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও শ্রমিকরা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আমচাষি আবু সাইদ বলেন, ‘সারা বছর আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। এবছর আবহাওয়া আমের জন্য খুবই ভালো ছিল। ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল, এ কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমের মানও ভালো রয়েছে। আমরা আশা করছি, বাজারে দাম ভালো থাকলে লোকসান হবে না।’

তবে আম চাষ এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সার, কীটনাশক, শ্রমিক সবকিছুর দাম বেড়েছে। একটি বাগান পরিচর্যা করতে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। তারপরও আমরা আশায় থাকি মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ার।’ ন্যায্যদাম নিশ্চিতে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের সহযোগিতাও দাবি করেন এই আম চাষি।

কলারোয়া এলাকার চাষি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এবার ফলন অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় ফলন বেশি হলে বাজারে দাম কমে যাওয়ার ভয় থাকে। এখন পর্যন্ত আমের বাজার ভালো আছে। আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা যেন ন্যায্যমূল্যে আম কেনেন।’

উৎপাদন খরচ বেড়েছে, এমন অবস্থায় দাম কমে গেলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটা আম বাজারে তুলতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে, পরিচর্যা ও পাহারা সব মিলিয়ে বড় বিনিয়োগ। এখন যদি দাম প্রতিমণ ২ হাজার টাকার নিচে নেমে যায়, বিশেষ করে হিমসাগরের ক্ষেত্রে, তাহলে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

পাটকেলঘাটার আরেক চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সাতক্ষীরার আম দেশের মধ্যে সবার আগে বাজারে আসে, এটাই আমাদের বড় সুবিধা। শুরুতে দাম ভালো পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা বাগানে আসতে শুরু করেছেন। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকে, তাহলে এবারের মৌসুম চাষিদের জন্য ভালো যাবে।’

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এবার সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সচেতন পরিচর্যার কারণে ফলন বেড়েছে। আম চাষিরা যাতে করে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত