জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জামালপুরে ড্রাম সেতু: দীর্ঘদিন হয়নি সংস্কার, ছিল ঝুঁকিপূর্ণ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জামাল্পুর

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬, ২২: ১০
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ভেঙে যাওয়া ভাসমান সেতু। সংগৃহীত ছবি

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর যে ভাসমান সেতুতে দুর্ঘটনায় ৫ শিশু মারা গেছে, দীর্ঘদিন সেটির কোনো সংস্কার করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ২০২৩ সালের আগস্টে প্লাস্টিক ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান সেতু দিয়ে অপর প্রান্তের চরে যাতায়াত ও বিনোদনের ব্যবস্থা করে পৌর কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসী জানায়, দেওয়ানগঞ্জ থানা মোড়সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত এই ভাসমান ড্রাম সেতুটি দীর্ঘদিনের অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। তবুও বিকল্প পথ না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছিলেন দুই পারের শত শত মানুষ।

কয়েক বছর আগে প্রয়াত পৌর মেয়র শাহ নেওয়াজ শাহানশাহ এই ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে পৌরসভা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ মোহাম্মদ নুরুন্নবী অপু সেতুটির লোহার অংশ দিয়ে মেরামত করেন। কিন্তু পরে আর সেতুটি সংস্কার কিংবা মেরামতের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কেউ।

সেতুর বেশ কয়েকটি অংশে কাঠ ও বাঁশ ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। কোথাও দড়ি ছিঁড়ে গিয়েছিল, আবার কোথাও লোহার পাটাতন ভেঙে পড়েছিল। এ অবস্থায় অনেক আগে থেকেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। মানুষের অতিরিক্ত ভারে সেতুর একটি অংশ ভেঙ্গে গিয়ে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) বিকালে ঈদে ঘুরতে আসা মানুষের প্রচন্ড চাপে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনের সেতুটি উল্টে সাঁকোটি উল্টে যায়। এতে ৫ শিশু মারা যায়।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন জানান, নিহতদের পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রত্যেক পরিবারকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমীন বলেন, ভাসমান সেতুতে সবসময় লোকসমাগম হয়, ঈদের কারণে আরও বেশি লোকসমাগম হওয়ায় ঝড়ে ভাসমান সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেতুটি ভেঙে যায়। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। তবে অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তা হয়ত পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন খতিয়ে দেখবে।

সম্পর্কিত