আগামী বছর যুক্ত হচ্ছে ৪ বিষয়, পরেরবার নতুন শিক্ষাক্রম

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ২০: ৫৪
সচিবালয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

আগামী শিক্ষাবর্ষে (২০২৭) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন চারটি বিষয় যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি বাধ্যতামূলক বিষয় থাকবে। পাশাপাশি বিদ্যমান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে ২০২৮ সাল থেকে পুরোপুরি নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

মাহ্দী আমিন বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি বিষয় যুক্ত হবে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

নতুন বিষয়গুলো চালুর পাশাপাশি শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ চলছে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তিন মাসে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আমরা প্রথমত এটিকে সঠিকভাবে পরিমার্জন ও বাস্তবসম্মত করে ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর পুরোপুরি শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের যে আশা করা হচ্ছে, আমরা সেটির কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটি দেখতে পাবেন।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। এছাড়া অংশীজনদের পরামর্শে আগামী বছর পবিত্র রমজানের আগেই এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি, যা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। আর ২০২৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হয়ে চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হলেই আমরা একটি কমিটি করব এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করব।’

নতুন ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ১৪ লাখ ট্যাব লাগবে। এটি একটি বিশাল প্রকল্প। এর বাজেট আমাদের পরবর্তী অর্থবছরে রয়েছে। বর্তমানে আমরা জিডিপির ২ শতাংশ পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, এই বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করা হবে।’

সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলীয় বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবির কাজ টিআইবি করবে, আমার কাজ আমি করব। এটি নবনির্বাচিত সরকার, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবে, সেটি একান্ত আমাদের সরকারের বিষয়। টিআইবির এমন কোনো রিপোর্ট দেওয়ার সময় এখনো হয়নি, আমরা কেবল যাত্রা শুরু করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত