গাবতলী পশুর হাটে দামে বেজার ক্রেতারা

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ২০: ১৫
গাবতলী হাটে বিক্রির জন্য আনা গরু। সংগৃহীত ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একমাত্র স্থায়ী গাবতলী পশুর হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানির পশু নিয়ে আসছেন বিক্রেতা ও খামারিরা। ভিড় তেমন না হলেও যারা আসছেন, দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। হাতে সময় থাকায় কয়েক হাট দেখে কেনার কথা বলছেন তারা।

শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিন এই চিত্র দেখা যায়। ক্রেতা-বিক্রেতা কম থাকায় একটি হাসিলঘর দিয়ে চলছে কার্যক্রম। প্রবেশ মুখে বড় গরু নিয়ে বসেছেন খামারিরা। হাটের ভেতরে বেশি ছোট ও মাঝারি আকারের কোরবানির পশু। কুষ্টিয়া থেকে আসা কৃষক সাইদুল ইসলাম তাঁর গরুর দাম চাচ্ছেন সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি একটি গরুই এনেছি। সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দাম চাইছি। আশা করছি, দ্রুতই বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে পারব।’

টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর থেকে ৪০টি ভারতীয় গরু হাটে এনেছেন আলেপ মন্ডল। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমরা বড় দুটির দাম ২০ লাখ চাচ্ছি। ৮-৯ লাখ পর্যন্ত টাকা কইতাছে। হাট বুঝতে সময় নিচ্ছি। গরু কম, দুয়েক দিনেই মধ্যে জমে উঠবে।’

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার অ্যাগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যানের সহকারী ইমরান আহমেদ বলেন, ‘প্রচুর ক্রেতা আসছেন। আমাদের ফার্মের গরু দেখে দরদাম করছেন। আমরা শনিবার থেকে বিক্রি শুরু করব বলেছি।’

দাম শুনে হতাশ ক্রেতা

মিরপুর-২ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাটে আসা শফিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে কীভাবে একটি ভালো পশু কোরবানি করব, সে চিন্তা করি। হাটে ব্যাপারীরা মুনাফার লোভে বাড়তি দাম চান। দেখলাম, আজ কেনা হবে না। পরে কিনব।’

রাজধানীর পল্টন থেকে আসা ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘গরু পর্যাপ্ত আসেনি। যেগুলো এসেছে, দাম অনেক। ছোট একটি গরু সাড়ে সাত লাখ টাকা চেয়েছেন। কিনতে পারি নাই।’

কেরানীগঞ্জ থেকে এক টন ওজনের মহিষ নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী মজিবর মিয়া। দাম হাঁকাচ্ছেন ২৫ লাখ টাকা। সঙ্গে একটি ছোট গরু ফ্রি দেবেন। মজিবর মিয়া স্ট্রিমকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে মহিষটা পালছি। কোনো বাজে জিনিস খাওয়াই নাই। গরমের সময় এমনও গেছে দিনে চারবার গোসল করাইছি। মহিষটা যিনি পছন্দ করে কিনবেন, তাঁকে একটি ভুট্টি (ছোট গরু) গিফট করব। এটাই আমার আশা।’ ক্রেতা কোনো দাম বলছে কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা দাম সেভাবে বলে নাই। কারও সঙ্গে বনিবনাও হয় নাই। আশা আছে, দ্রুত হয়ে যাবে।’

হাটের ক্যাশিয়ার লিজন আহমেদ বলেন, ‘হাটে অনেক পশু, ধীরে ধীরে জমছে। গরু রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজারাদার হানিফ এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মো. হানিফের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। আমাদের স্টাফ আছে, পুলিশ প্রশাসন আছে। চাঁদাবাজি, হয়রানির কোনো সুযোগ নেই। ক্রেতা-বিক্রেতার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হাসিল ঘর একটিই। আরও বাড়বে। জাল টাকা শনাক্তে আমরা যন্ত্র বসিয়েছি। প্রত্যেক বুথে যন্ত্র ও আমাদের লোক থাকবে।’

সম্পর্কিত