বিচারপতি খায়রুল হক শোন অ্যারেস্ট, মিলছে না মুক্তি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ২০: ০৭
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে অন্যান্য মামলায় জামিন পেলেও নতুন করে এই আদেশের কারণে তার কারামুক্তি আপাতত আটকে গেল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।

আদেশের বিষয়ে খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, কারামুক্ত হতে তাকে এ মামলায় নতুন করে জামিন নিতে হবে।

খায়রুল হককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে গত ১৬ মে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মো. ইব্রাহিম খলিল। ওই আবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে মামলার ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

শনিবার আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেছিল আদালত। এ দিন সকালে খায়রুল হককে আদালতে হাজির করে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে হেলমেট পরিয়ে হুইল চেয়ারে করে তাকে এজলাসে নেওয়া হয়। পরে হেলমেট খুলে কাঠগড়ার পাশে হুইল চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়। তবে তখন শুনানি না করেই পুলিশ পাহারায় তাকে ফের আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে বেলা ৩টার পর পুনরায় তাকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে তোলা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবীরা গত ১৯ তারিখের হাই কোর্টের একটা অর্ডার দেখিয়েছেন, যেখানে আসামিকে নতুন মামলা না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু আজকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে মামলাটা কিন্তু গত ১৬ মে আদালত আমলে নিয়েছে এবং আংশিক শুনানি করে আজকের তারিখে আসামিকে হাজিরের আদেশ দিয়েছে। হাই কোর্টে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলার বিষয়টি উল্লেখ করেননি। সুতরাং এখানে কোনোভাবে হাই কোর্টের নির্দেশনাকে অমান্য করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, এই মামলায় তদন্ত করতে অনেককে গ্রেপ্তার করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রার্থনা করছি।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোনায়েম নবী শাহিন গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করেন।

শুনানিতে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যে এমন কিছু নাই যে কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো যাবে। এই মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি নন। এই মামলার ঘটনার সময় হচ্ছে সকাল ১১টা। আবার আদাবর থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেই মামলায় ঘটনাও হচ্ছে সকাল ১১টা। একই সময়ে তো একজন ব্যক্তি দুই জায়গায় থাকতে পারেন না। তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করছি।

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে খায়রুল হককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট সকাল ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন ২০ বছর বয়সী যুবক খোবাইব। যাত্রাবাড়ী ফুটব্রিজের নিচে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলাকালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান খোবাইব।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানাসহ ৮০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুই হত্যা মামলায় খায়রুল হককে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন গত ২০ মে বহাল রাখে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। তারও আগে আরও পাঁচ মামলায় তার জামিন বহাল রেখেছিল আপিল বিভাগ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত