রংপুরে ৪ খুন: আলোচনার মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা বদল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১: ১১
স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য খুনের মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হলো।

পুলিশ বলছে, অধিকতর স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার জন্যই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘মামলাটি এখন ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্যই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

গত ২২ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন– রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে ২২ আগস্ট রাতে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাসকে (১৯) আটক করে পুলিশ। পরেরদিন রাতে তাঁরা রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত–২ এ দুজন জবানবন্দি দেন। বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মিলন চ্যাটার্জি।

তদন্তভার পরিবর্তনের পরে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে দুজনে ঘটনাস্থল নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেছেন, দুই আসামি আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, তাদের বক্তব্য পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আদালত সূত্রে জানতে পেরেছি– আসামিরা অ্যাজ ইট ইজ অর্থাৎ আমাদের কমিশনার ব্রিফিংয়ে যা বলেছেন, দেশবাসীকে যা জানিয়েছেন, একই ঘটনা তাঁরা আদালতে বলেছেন। আসামিরা কিছু ক্ষেত্রে নতুন তথ্য যুক্ত করেছেন, যা আমাদের তাঁরা আগে বলেননি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত