স্ট্রিম সংবাদদাতা

রংপুর নগরীতে নিহত প্রাক্তন স্কুলশিক্ষকসহ পরিবারের চার সদস্যের মুখই ঝলসানো ছিল। তাদের মুখমণ্ডল থেকে দাহ্য পদার্থ পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে বা পরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে তাদের মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন– রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
রোববার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের সৎকার করা হয়। দাহ করার আগে স্বজনেরা চারজনের মুখমণ্ডল ঝলসানো দেখতে পান।
গণপতির ভাতিজি জামাই বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘জীবনে এমন দৃশ্য কখনো দেখিনি। একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে দাহ করা যে কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
নিহতের ঘটনায় মামলার বাদী ও গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী জানান, নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে নিহতদের শেষকৃত্য হয়েছে। নিহতদের মুখমণ্ডল দাহ্য পদার্থ দিয়ে ঝলসে দেওয়ার তথ্য পুলিশ আমাদের জানায়নি। লাশগুলো পাওয়ার পর আমরা তা দেখতে পাই।
তিনি বলেন, গণপতি নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তিন তলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ হয়েছে। বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করার কথা ছিল তার। এই নিয়ে কারা যেন চাঁদা দাবি করেছিল। কিন্তু বিস্তারিত জানাইনি। আমার ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুব কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা রানী বলেন, লাশগুলো হস্তান্তরের পরে আমরা তাদের মুখগুলো ঝলসানো পাই। এর আগে পুলিশ আমাদের লাশের কাছে যেতে দেয়নি। তাদের হত্যার আগে বা পরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে মুখগুলো ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের কাছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘আজ ঘরবাড়ি সব আছে। দিদি-দাদা, আগামী-আয়ুশ নেই। পুরো সংসার শূন্য। আমি আমার দিদি-দাদা ও সন্তাদের হত্যার বিচার চাই। ঘাতকরাও যেন এমন চিতায় জ্বলে শেষ হয়।’
জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদের বলেন, নিহতদের মুখমণ্ডলে দাহ্য পদার্থ পাওয়া গেছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে।
এর আগে রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, লাশগুলোর মুখমণ্ডল ঝলসানো ছিল। হত্যার আগে বা পরে হত্যাকারীরা দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে তাদের মুখ ঝলসে দিয়েছিল। দাহ্য পদার্থ হিসেবে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।
পুলিশ জানায়, চার খুনের ঘটনায় শনিবার রাতে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাসকে (১৯) আটক করে তারা। পরে রোববার রাতে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত–২ এ দুজন জবানবন্দি দেন। বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জি।
এ ছাড়া রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন গ্রেপ্তার দুই আসামি। তা দেখে তাদের চিনে ফেলায় বাড়ির মালিক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। এরপর একে একে পরিবারের তিন সদস্যকেও হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।
পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। হত্যার পর আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করে গোসল, খেজুর ও শসা খেয়ে জুমার সময় বেরিয়ে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাকে ডাকাতি হিসেবে প্রমাণের জন্য আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন, যাতে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়।’
পুলিশ জানিয়েছে, সিদ্ধার্থ দীর্ঘদিন স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করায় আসল-নকল স্বর্ণ চেনেন। তদন্তে একটি চুড়ি আগুনে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়ার পর তাদের সন্দেহ হয় এবং সেই সূত্র ধরে ঘাতকের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকান আট বছর ধরে কারিগর। ফলে কোনটি আসল স্বর্ণ আর কোনটি নকল, তা সহজেই চিনতে পারেন তিনি। তদন্তে আমরা একটি চুড়ি আগুনে পরীক্ষা করার আলামত পাই। তখনই ধারণা করি, স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। পরে সেই ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়।’
স্বর্ণ কোথায় পাওয়া গেছে– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আসামিরা যাওয়ার সময় যে আমরা কিছু স্বর্ণালংকার ওদের দেখানো মতে উদ্ধার করেছি, এগুলো তারা নিয়ে যায়। ওরা মন্দিরের পেছনে একটা পরিত্যক্ত বাড়ির, পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেয়। তাদের দেখানো মতে, এই আলামতগুলো জব্দ করা হয়।’
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আসামি সিদ্ধার্থের কাকার বাড়ির শয়নকক্ষের পেছনে একটি নারিকেল গাছের পাশ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। সিদ্ধার্থের বাবাও এই তথ্য জানিয়েছেন।
নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী জানান, তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তাই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানেন না। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে আরও কেউ থাকতে পারেন, পুলিশের তদন্তে আসল ঘটনা আসবে বলে মনে করেন তিনি।
যে বাড়িতে খুন হয়েছেন, সেটি নির্মাণের সময় চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের কথা বড় ভাইকে জানিয়েছিলেন গণপতি। এ ব্যাপারে গোপীনাথ বলেন, ‘বাড়ি করার সময় চাঁদা চেয়ে সীমানা প্রাচীর ভাঙাভাঙি করছিল। নতুন বাড়ি করলে নাকি টাকা দিতে হয়। কিছু দিয়ে সেটি মিটমাট করেছে। যাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল, তারা আশেপাশেরই লোক।’
গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাসের মা সেনা রানী দাস ছেলের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার জন্য সঙ্গদোষকে দায়ী করেছেন। তবে চারজনকে হত্যার মতো ঘটনা দুই যুবক করতে পারে কিনা, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে।
সেনা রানী বলেন, ‘আমি খালি চিন্তা করতেছি– আমার ছেলে দুজন মিলে এই কাজটা করতে পারবে? আমি শুধু এইটাই ভাবতেছি। ওরা তিনজন যুবক আর ছোট একটা বাচ্চা; এরা দুজন মিলে এই কাজটা করার সাহস পাবে। তবে যাঁরা খুন হইছে, তাঁরা ভালো মানুষ ছিল। যাঁরাই খুন করুক, তাদের বিচার চাই।’
গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের বাবা কানু দাস জানান, তাঁর ছেলে দোষী হলে তিনি শাস্তি মেনে নেবেন। তবে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা, সেটি তদন্তের দাবি জানান তিনি।
কানু দাস বলেন, ‘আমি চাই অপরাধীর বিচার হোক। ওর সঙ্গে (সিদ্ধার্থ) যাঁরা জড়িত ছিল, এটা সরকারের দায়িত্ব, পুলিশের দায়িত্ব কারা ছিল? কারণ, এতবড় চারটা মার্ডার কীভাবে দুইজনে সম্ভব? আমার ছেলে দোষী হলে, যা শাস্তি দেবে মাথা পেতে নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও দেখতে হবে– এলাকায় কারা মাদক কারবার করে। কীভাবে ছেলেপেলেরা নষ্ট হচ্ছে? আজ যেমন চারজন শেষ হয়ে গেল! আমার বুকের ধনটাও নষ্ট হয়ে গেছে, এটা দুঃখের। এমন যেন আর না হয়।’

রংপুর নগরীতে নিহত প্রাক্তন স্কুলশিক্ষকসহ পরিবারের চার সদস্যের মুখই ঝলসানো ছিল। তাদের মুখমণ্ডল থেকে দাহ্য পদার্থ পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে বা পরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে তাদের মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন– রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
রোববার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের সৎকার করা হয়। দাহ করার আগে স্বজনেরা চারজনের মুখমণ্ডল ঝলসানো দেখতে পান।
গণপতির ভাতিজি জামাই বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘জীবনে এমন দৃশ্য কখনো দেখিনি। একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে দাহ করা যে কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
নিহতের ঘটনায় মামলার বাদী ও গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী জানান, নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে নিহতদের শেষকৃত্য হয়েছে। নিহতদের মুখমণ্ডল দাহ্য পদার্থ দিয়ে ঝলসে দেওয়ার তথ্য পুলিশ আমাদের জানায়নি। লাশগুলো পাওয়ার পর আমরা তা দেখতে পাই।
তিনি বলেন, গণপতি নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তিন তলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ হয়েছে। বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করার কথা ছিল তার। এই নিয়ে কারা যেন চাঁদা দাবি করেছিল। কিন্তু বিস্তারিত জানাইনি। আমার ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুব কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা রানী বলেন, লাশগুলো হস্তান্তরের পরে আমরা তাদের মুখগুলো ঝলসানো পাই। এর আগে পুলিশ আমাদের লাশের কাছে যেতে দেয়নি। তাদের হত্যার আগে বা পরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে মুখগুলো ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের কাছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘আজ ঘরবাড়ি সব আছে। দিদি-দাদা, আগামী-আয়ুশ নেই। পুরো সংসার শূন্য। আমি আমার দিদি-দাদা ও সন্তাদের হত্যার বিচার চাই। ঘাতকরাও যেন এমন চিতায় জ্বলে শেষ হয়।’
জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদের বলেন, নিহতদের মুখমণ্ডলে দাহ্য পদার্থ পাওয়া গেছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে।
এর আগে রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, লাশগুলোর মুখমণ্ডল ঝলসানো ছিল। হত্যার আগে বা পরে হত্যাকারীরা দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে তাদের মুখ ঝলসে দিয়েছিল। দাহ্য পদার্থ হিসেবে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।
পুলিশ জানায়, চার খুনের ঘটনায় শনিবার রাতে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাসকে (১৯) আটক করে তারা। পরে রোববার রাতে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত–২ এ দুজন জবানবন্দি দেন। বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জি।
এ ছাড়া রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন গ্রেপ্তার দুই আসামি। তা দেখে তাদের চিনে ফেলায় বাড়ির মালিক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। এরপর একে একে পরিবারের তিন সদস্যকেও হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।
পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। হত্যার পর আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করে গোসল, খেজুর ও শসা খেয়ে জুমার সময় বেরিয়ে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাকে ডাকাতি হিসেবে প্রমাণের জন্য আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন, যাতে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়।’
পুলিশ জানিয়েছে, সিদ্ধার্থ দীর্ঘদিন স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করায় আসল-নকল স্বর্ণ চেনেন। তদন্তে একটি চুড়ি আগুনে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়ার পর তাদের সন্দেহ হয় এবং সেই সূত্র ধরে ঘাতকের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকান আট বছর ধরে কারিগর। ফলে কোনটি আসল স্বর্ণ আর কোনটি নকল, তা সহজেই চিনতে পারেন তিনি। তদন্তে আমরা একটি চুড়ি আগুনে পরীক্ষা করার আলামত পাই। তখনই ধারণা করি, স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। পরে সেই ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়।’
স্বর্ণ কোথায় পাওয়া গেছে– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আসামিরা যাওয়ার সময় যে আমরা কিছু স্বর্ণালংকার ওদের দেখানো মতে উদ্ধার করেছি, এগুলো তারা নিয়ে যায়। ওরা মন্দিরের পেছনে একটা পরিত্যক্ত বাড়ির, পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেয়। তাদের দেখানো মতে, এই আলামতগুলো জব্দ করা হয়।’
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আসামি সিদ্ধার্থের কাকার বাড়ির শয়নকক্ষের পেছনে একটি নারিকেল গাছের পাশ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। সিদ্ধার্থের বাবাও এই তথ্য জানিয়েছেন।
নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী জানান, তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তাই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানেন না। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে আরও কেউ থাকতে পারেন, পুলিশের তদন্তে আসল ঘটনা আসবে বলে মনে করেন তিনি।
যে বাড়িতে খুন হয়েছেন, সেটি নির্মাণের সময় চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের কথা বড় ভাইকে জানিয়েছিলেন গণপতি। এ ব্যাপারে গোপীনাথ বলেন, ‘বাড়ি করার সময় চাঁদা চেয়ে সীমানা প্রাচীর ভাঙাভাঙি করছিল। নতুন বাড়ি করলে নাকি টাকা দিতে হয়। কিছু দিয়ে সেটি মিটমাট করেছে। যাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল, তারা আশেপাশেরই লোক।’
গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাসের মা সেনা রানী দাস ছেলের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার জন্য সঙ্গদোষকে দায়ী করেছেন। তবে চারজনকে হত্যার মতো ঘটনা দুই যুবক করতে পারে কিনা, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে।
সেনা রানী বলেন, ‘আমি খালি চিন্তা করতেছি– আমার ছেলে দুজন মিলে এই কাজটা করতে পারবে? আমি শুধু এইটাই ভাবতেছি। ওরা তিনজন যুবক আর ছোট একটা বাচ্চা; এরা দুজন মিলে এই কাজটা করার সাহস পাবে। তবে যাঁরা খুন হইছে, তাঁরা ভালো মানুষ ছিল। যাঁরাই খুন করুক, তাদের বিচার চাই।’
গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের বাবা কানু দাস জানান, তাঁর ছেলে দোষী হলে তিনি শাস্তি মেনে নেবেন। তবে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা, সেটি তদন্তের দাবি জানান তিনি।
কানু দাস বলেন, ‘আমি চাই অপরাধীর বিচার হোক। ওর সঙ্গে (সিদ্ধার্থ) যাঁরা জড়িত ছিল, এটা সরকারের দায়িত্ব, পুলিশের দায়িত্ব কারা ছিল? কারণ, এতবড় চারটা মার্ডার কীভাবে দুইজনে সম্ভব? আমার ছেলে দোষী হলে, যা শাস্তি দেবে মাথা পেতে নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও দেখতে হবে– এলাকায় কারা মাদক কারবার করে। কীভাবে ছেলেপেলেরা নষ্ট হচ্ছে? আজ যেমন চারজন শেষ হয়ে গেল! আমার বুকের ধনটাও নষ্ট হয়ে গেছে, এটা দুঃখের। এমন যেন আর না হয়।’
.png)
-6c7b64.jpeg)
পাবনার বেড়া পৌরসভার বড়শিলা থেকে চাকলা ইউনিয়নের নলভাঙা হয়ে খাকছাড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক। বিলের মধ্য যাওয়া সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ঝোপঝাড়, লতাগুল্ম আর ঘন জঙ্গলে ঢেকে গেছে।
১৩ মিনিট আগে
নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। আলোচিত এ মামলায় দুজনের ফাঁসি ও চরজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খালাস পেয়েছেন ১০ জন।
৩১ মিনিট আগে
যশোরের শার্শা উপজেলার সোনামুখো বিলে লোডশেডিংয়ের কারণে এয়ারেটর ব্যবহার করতে না পারায় পানিতে অক্সিজেনসংকট দেখা দেয়। এতে প্রায় ১০ হাজার মণ পাবদা মাছ মরে ভেসে উঠেছে। মালিকপক্ষের দাবি, এর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা।
২ ঘণ্টা আগে
হবিগঞ্জ সদরের লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। দেড় মাসের ব্যবধানে একই বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে ভাঙন দিয়ে পানি ঢুকে নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে