এনবিআরের প্রাক-বাজেট আলোচনা
স্ট্রিম প্রতিবেদক

বাজারে অবৈধ সিগারেটের পাওয়ায় বছরে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে সরকার ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ প্রযুক্তি ও কিউআর কোড চালু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বিড়ি-সিগারেটসংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যানের মতবিনিময়ে এসব তথ্য ও সিদ্ধান্ত উঠে আসে।
আলোচনায় ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন (এনসিএমএ) প্রতিনিধি একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জানান, গত ৫ বছরে সিগারেট খাত থেকে সরকারের রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও, ২০২৫ সালের মাসে অন্তর্বর্তী বাজেটে ট্যাক্স ও দাম অতিরিক্ত বাড়ার কারণে প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে এনসিএমএর প্রতিনিধি জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট রাজস্বের ৫৬ শতাংশ আসতো নিম্নস্তরের (লো সেগমেন্ট) সিগারেট থেকে। কিন্তু বর্তমানে তা কমে ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মিডিয়াম সেগমেন্টের বাজার ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ বছরে উচ্চস্তরের সিগারেটে কর ২ শতাংশ বাড়লেও নিম্নস্তরে বেড়েছে ১০ শতাংশ। ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বাজারে সিগারেটের ভলিউম বা পরিমাণ ২২ শতাংশ কমে গেছে। তবে মানুষ সিগারেট খাওয়া ছাড়েনি, বরং এই ২০-২২ শতাংশ ভোক্তা অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের দিকে ঝুঁকেছে।
অবৈধ কারখানার দৌরাত্ম্য ও ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্বের প্রস্তাব সিগারেট খাতের ওই প্রতিনিধি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের আনাচে-কানাচে ৩০টির বেশি ছোট কারখানা অবৈধভাবে সিগারেট তৈরি করছে। শতভাগ দেশীয় তামাক ব্যবহার করে এসব কারখানা পরিচালিত হচ্ছে এবং এদের কাঁচামাল জোগান দিচ্ছে ৬-৭টি প্রসেসিং কারখানা।
তার দাবি, এই অবৈধ বাজারকে যদি এনবিআর নজরদারির আওতায় আনতে পারে, তবে সরকারের হারানো সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্বের অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা এখনই উদ্ধার করা সম্ভব।
আগামী বাজেটের জন্য প্রস্তাবনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিম্নস্তরের সিগারেটে আর কর বা দাম বাড়ানো উচিত হবে না, কারণ উৎপাদকরা এই স্তরে লোকসানে (নেগেটিভ মার্জিন) ব্যবসা করছেন। সরকারের উচিত অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা এবং উচ্চস্তরের সিগারেটে কর বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ নিলে আমরা সরকারকে ৫ হাজার কোটির জায়গায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এনে দিতে পারবো।’
এসব বক্তব্যের পর এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান অবৈধ বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘কর ফাঁকি দেওয়া অবৈধ কারখানা বন্ধে আমরা ‘‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’’ পদ্ধতি এবং মোবাইল কিউআর কোড চালু করার কথা ভাবছি। সাধারণ জনগণকে কাজে লাগিয়ে এই ফাঁকি ধরা হবে। যারা অবৈধ সিগারেটের তথ্য দেবেন, তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।’
সিগারেটের প্রতি শলাকায় কর আরোপের চিন্তা
এনবিআর চেয়ারম্যান কোম্পানির দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘কমপ্লায়েন্ট (আইন মেনে চলা) কোম্পানিগুলো সব সময় অভিযোগ করে যে তাদের মার্কেট শেয়ারের তুলনায় রেভিনিউ শেয়ার বেশি। কিন্তু একটি ৬০ টাকার সিগারেটে ৮৩ শতাংশ কর এবং ১৮৫ টাকার প্রিমিয়াম সিগারেটে ৮৩ শতাংশ করের মধ্যে প্রতি শলাকা হিসেবে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।’
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, ‘আমরাও মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ৮৩ শতাংশের ওপরে কর বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই এবং আমরা তা নিয়ে ভাবছিও না। এখন আমাদের বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে হবে। যেমন—সিগারেটের মূল্য নির্ধারণের মেকানিজম পরিবর্তন করা, প্রতি শলাকা (পার স্টিক) হিসেবে কর আরোপ করা অথবা মিশ্র (মিক্সড) কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা।’
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, জাপান টোব্যাকো ও ফিলিপ মরিসের সঙ্গে আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান একথা বলেন।
এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, বাজারে অবৈধ সিগারেটের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানে তারা এনবিআরকে শিল্প প্রতিনিধি ও বড় কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। উল্লেখ্য, এই তিন কোম্পানি দেশের সিগারেট খাত থেকে আসা মোট রাজস্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রদান করে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, অবৈধ বাণিজ্য রুখতে এনবিআর একটি আধুনিক ট্র্যাকিং ও ট্রেসিং পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিগারেটের প্যাকেটের স্ট্যাম্প আরও সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এর রঙ পরিবর্তন করা হবে এবং এতে ব্যবহৃত আঠার (গ্লু) প্রযুক্তিতে নতুনত্ব আনা হবে, যেন এটি জাল করা না যায়।’
দাম বাড়লেই বাজারে নকল বিড়ি প্রবেশ করে
বিড়ির দাম অতিরিক্ত বাড়ালে বাজারে নকল বা কর ফাঁকি দেওয়া বিড়ির দৌরাত্ম্য বাড়ে, যার ফলে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। তাই বিড়ি খাতে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে চলতি বছর দাম ও কর অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সভায় পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতি প্যাকেট বিড়ির দাম ছিল সাড়ে ১২ টাকা এবং সে বছর সরকার রাজস্ব পেয়েছিল ৮৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দাম বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হলে রাজস্ব বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯৩ কোটি ৩১ লাখ টাকায়। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে দাম ১৮ টাকা করা হলে রাজস্ব আসে ১০৮৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
তবে বিপত্তি ঘটে এর পরের বছরগুলোতে। দাম ১৮ টাকা স্থির থাকার পরও ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে কমে যথাক্রমে ১০৪৬ ও ১০৩১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘দাম বাড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রাজস্ব বাড়লেও পরে তা থমকে যায় এবং নেগেটিভ গ্রোথ শুরু হয়। কারণ, দাম বাড়লেই বাজারে নকল বিড়ি প্রবেশ করে। তবে দাম কয়েক বছর স্থির রাখলে নকলের প্রভাব কমে এবং বাজার আবার স্থিতিশীল হয়। গত কয়েক বছর দাম ১৮ টাকা থাকায় এখন আবার রাজস্ব বাড়ছে এবং এ বছর তা ১২৯২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘোড়াকে অতিরিক্ত চাবুক মারলে যেমন মুখ থুবড়ে পড়ে, তেমনি অতিরিক্ত শুল্ক বাড়ালে অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এ বছর বিড়ির দাম বাড়ালে গত আট বছরের মতো আবারও নেতিবাচক চক্রের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।’
সভায় সিগারেট ও বিড়ির করকাঠামোর পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, রংপুর অঞ্চলে বিড়ি প্রস্তুতকারকরা সিগারেটের মতো একই কাঠামোতে কর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিলেন। বিড়ির বিক্রি বর্তমানে কমে গেছে এবং ভোক্তারা ফিল্টারযুক্ত সিগারেটের দিকে ঝুঁকছেন।
বিড়ির দাম না বাড়িয়ে কীভাবে রাজস্ব বাড়ানো যায়, তার একটি সমাধান দিয়ে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেশে বিড়ি উৎপাদনের লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই কোনো ট্যাক্স দিচ্ছেন না। সরকারের উচিত একটি নিয়ম করা যে, লাইসেন্সধারী প্রতিটি বিড়ি কারখানাকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যান্ডরোল কিনতে হবে বা ন্যূনতম কর দিতে হবে। যারা এই ন্যূনতম কর দেবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। শুধু এই একটি পদক্ষেপ নিলেই সরকারের রাজস্ব বহুগুণ বেড়ে যাবে।’
প্রতিনিধিদের এসব বক্তব্যের পর এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

বাজারে অবৈধ সিগারেটের পাওয়ায় বছরে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে সরকার ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ প্রযুক্তি ও কিউআর কোড চালু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বিড়ি-সিগারেটসংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যানের মতবিনিময়ে এসব তথ্য ও সিদ্ধান্ত উঠে আসে।
আলোচনায় ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন (এনসিএমএ) প্রতিনিধি একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জানান, গত ৫ বছরে সিগারেট খাত থেকে সরকারের রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও, ২০২৫ সালের মাসে অন্তর্বর্তী বাজেটে ট্যাক্স ও দাম অতিরিক্ত বাড়ার কারণে প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে এনসিএমএর প্রতিনিধি জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট রাজস্বের ৫৬ শতাংশ আসতো নিম্নস্তরের (লো সেগমেন্ট) সিগারেট থেকে। কিন্তু বর্তমানে তা কমে ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মিডিয়াম সেগমেন্টের বাজার ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ বছরে উচ্চস্তরের সিগারেটে কর ২ শতাংশ বাড়লেও নিম্নস্তরে বেড়েছে ১০ শতাংশ। ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বাজারে সিগারেটের ভলিউম বা পরিমাণ ২২ শতাংশ কমে গেছে। তবে মানুষ সিগারেট খাওয়া ছাড়েনি, বরং এই ২০-২২ শতাংশ ভোক্তা অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের দিকে ঝুঁকেছে।
অবৈধ কারখানার দৌরাত্ম্য ও ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্বের প্রস্তাব সিগারেট খাতের ওই প্রতিনিধি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের আনাচে-কানাচে ৩০টির বেশি ছোট কারখানা অবৈধভাবে সিগারেট তৈরি করছে। শতভাগ দেশীয় তামাক ব্যবহার করে এসব কারখানা পরিচালিত হচ্ছে এবং এদের কাঁচামাল জোগান দিচ্ছে ৬-৭টি প্রসেসিং কারখানা।
তার দাবি, এই অবৈধ বাজারকে যদি এনবিআর নজরদারির আওতায় আনতে পারে, তবে সরকারের হারানো সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্বের অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা এখনই উদ্ধার করা সম্ভব।
আগামী বাজেটের জন্য প্রস্তাবনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিম্নস্তরের সিগারেটে আর কর বা দাম বাড়ানো উচিত হবে না, কারণ উৎপাদকরা এই স্তরে লোকসানে (নেগেটিভ মার্জিন) ব্যবসা করছেন। সরকারের উচিত অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা এবং উচ্চস্তরের সিগারেটে কর বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ নিলে আমরা সরকারকে ৫ হাজার কোটির জায়গায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এনে দিতে পারবো।’
এসব বক্তব্যের পর এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান অবৈধ বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘কর ফাঁকি দেওয়া অবৈধ কারখানা বন্ধে আমরা ‘‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’’ পদ্ধতি এবং মোবাইল কিউআর কোড চালু করার কথা ভাবছি। সাধারণ জনগণকে কাজে লাগিয়ে এই ফাঁকি ধরা হবে। যারা অবৈধ সিগারেটের তথ্য দেবেন, তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।’
সিগারেটের প্রতি শলাকায় কর আরোপের চিন্তা
এনবিআর চেয়ারম্যান কোম্পানির দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘কমপ্লায়েন্ট (আইন মেনে চলা) কোম্পানিগুলো সব সময় অভিযোগ করে যে তাদের মার্কেট শেয়ারের তুলনায় রেভিনিউ শেয়ার বেশি। কিন্তু একটি ৬০ টাকার সিগারেটে ৮৩ শতাংশ কর এবং ১৮৫ টাকার প্রিমিয়াম সিগারেটে ৮৩ শতাংশ করের মধ্যে প্রতি শলাকা হিসেবে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।’
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, ‘আমরাও মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ৮৩ শতাংশের ওপরে কর বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই এবং আমরা তা নিয়ে ভাবছিও না। এখন আমাদের বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে হবে। যেমন—সিগারেটের মূল্য নির্ধারণের মেকানিজম পরিবর্তন করা, প্রতি শলাকা (পার স্টিক) হিসেবে কর আরোপ করা অথবা মিশ্র (মিক্সড) কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা।’
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, জাপান টোব্যাকো ও ফিলিপ মরিসের সঙ্গে আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান একথা বলেন।
এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, বাজারে অবৈধ সিগারেটের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানে তারা এনবিআরকে শিল্প প্রতিনিধি ও বড় কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। উল্লেখ্য, এই তিন কোম্পানি দেশের সিগারেট খাত থেকে আসা মোট রাজস্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রদান করে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, অবৈধ বাণিজ্য রুখতে এনবিআর একটি আধুনিক ট্র্যাকিং ও ট্রেসিং পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিগারেটের প্যাকেটের স্ট্যাম্প আরও সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এর রঙ পরিবর্তন করা হবে এবং এতে ব্যবহৃত আঠার (গ্লু) প্রযুক্তিতে নতুনত্ব আনা হবে, যেন এটি জাল করা না যায়।’
দাম বাড়লেই বাজারে নকল বিড়ি প্রবেশ করে
বিড়ির দাম অতিরিক্ত বাড়ালে বাজারে নকল বা কর ফাঁকি দেওয়া বিড়ির দৌরাত্ম্য বাড়ে, যার ফলে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। তাই বিড়ি খাতে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে চলতি বছর দাম ও কর অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সভায় পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতি প্যাকেট বিড়ির দাম ছিল সাড়ে ১২ টাকা এবং সে বছর সরকার রাজস্ব পেয়েছিল ৮৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দাম বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হলে রাজস্ব বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯৩ কোটি ৩১ লাখ টাকায়। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে দাম ১৮ টাকা করা হলে রাজস্ব আসে ১০৮৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
তবে বিপত্তি ঘটে এর পরের বছরগুলোতে। দাম ১৮ টাকা স্থির থাকার পরও ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে কমে যথাক্রমে ১০৪৬ ও ১০৩১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘দাম বাড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রাজস্ব বাড়লেও পরে তা থমকে যায় এবং নেগেটিভ গ্রোথ শুরু হয়। কারণ, দাম বাড়লেই বাজারে নকল বিড়ি প্রবেশ করে। তবে দাম কয়েক বছর স্থির রাখলে নকলের প্রভাব কমে এবং বাজার আবার স্থিতিশীল হয়। গত কয়েক বছর দাম ১৮ টাকা থাকায় এখন আবার রাজস্ব বাড়ছে এবং এ বছর তা ১২৯২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘোড়াকে অতিরিক্ত চাবুক মারলে যেমন মুখ থুবড়ে পড়ে, তেমনি অতিরিক্ত শুল্ক বাড়ালে অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এ বছর বিড়ির দাম বাড়ালে গত আট বছরের মতো আবারও নেতিবাচক চক্রের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।’
সভায় সিগারেট ও বিড়ির করকাঠামোর পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, রংপুর অঞ্চলে বিড়ি প্রস্তুতকারকরা সিগারেটের মতো একই কাঠামোতে কর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিলেন। বিড়ির বিক্রি বর্তমানে কমে গেছে এবং ভোক্তারা ফিল্টারযুক্ত সিগারেটের দিকে ঝুঁকছেন।
বিড়ির দাম না বাড়িয়ে কীভাবে রাজস্ব বাড়ানো যায়, তার একটি সমাধান দিয়ে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেশে বিড়ি উৎপাদনের লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই কোনো ট্যাক্স দিচ্ছেন না। সরকারের উচিত একটি নিয়ম করা যে, লাইসেন্সধারী প্রতিটি বিড়ি কারখানাকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যান্ডরোল কিনতে হবে বা ন্যূনতম কর দিতে হবে। যারা এই ন্যূনতম কর দেবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। শুধু এই একটি পদক্ষেপ নিলেই সরকারের রাজস্ব বহুগুণ বেড়ে যাবে।’
প্রতিনিধিদের এসব বক্তব্যের পর এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

কেউ যেন তিন থেকে চারবারের বেশি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে না পারেন এমন নিয়ম চালুর প্রস্তাব করেছেন মো. নওশাদ জমির। পঞ্চগড়-১ আসনের এ সদস্য সোমবার সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ প্রথা বলেন।
১ ঘণ্টা আগে
বিএনপির সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিমের ‘জুলাই সনদ’কে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্যের জেরে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হইচই হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ আলোচনার সময় এই মন্তব্য করেন বিএনপির এই এমপি।
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় পুনর্গঠন ও রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।
১ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর উপাদান এখনো বহাল রয়েছে, তাই রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার করে গণভোটের রায় অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
১ ঘণ্টা আগে