রাজনৈতিক মামলা যাচাই করে প্রত্যাহার করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৪৬
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

এখনো প্রত্যাহার না হওয়া রাজনৈতিক মামলা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে আসে। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর বিষয়ে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে প্রথমে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হতে হবে। আপিল নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’

আরেক সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের অধিক পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০-এর বিধি ৪৩ এবং বিধি ৪৫সি অনুযায়ী ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সরকারি খরচে ৪৪ জন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে শুধু তাদের বিচার নিষ্পত্তি করার জন্য সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত