স্ট্রিম ডেস্ক

খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি বা বান্দরবানে সংঘর্ষ, অপহরণ কিংবা গোলাগুলির কোনো ঘটনায় প্রায়ই দুটি নাম শোনা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। তবে অনেকেই জানেন না, দুটি সংগঠনের জন্ম একই প্রেক্ষাপট থেকে হলেও পরে মতপার্থক্যের কারণে তারা আলাদা পথে হাঁটে। কখন জন্ম হয়েছিল এ দুটি সংগঠনের?
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ তাদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ভূমি-অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের আগে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তৎকালীন সরকারের কাছে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের স্বীকৃতি এবং কিছু বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানায়। কিন্তু সেই দাবিগুলো গৃহীত না হওয়ায় পরের বছর একটি নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।
সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ভূমির অধিকার রক্ষা। পরে জেএসএসের সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী গঠিত হয়। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শান্তিবাহিনী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়, যা প্রায় দুই দশক ধরে চলে।
এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও জেএসএস পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মাধ্যমে সশস্ত্র সংঘাতের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। পরে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র জমা দেন এবং জেএসএস মূলধারার রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে শুরু করে।
শান্তিচুক্তি হলেও পার্বত্য অঞ্চলের সবাই এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। একাংশের অভিযোগ ছিল, চুক্তিতে ভূমি, স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যাপ্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এই মতপার্থক্য থেকেই ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর গঠিত হয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের অনেকেই আগে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইউপিডিএফ শুরু থেকেই ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে এবং দাবি করে, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়।
দুই সংগঠনের মূল পার্থক্য হচ্ছে, ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি নিয়ে অবস্থানে তাদের অবস্থান। জেএসএসের মতে, শান্তিচুক্তি পার্বত্য সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের ভিত্তি এবং এর পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
অন্যদিকে ইউপিডিএফ মনে করে, চুক্তিটি অসম্পূর্ণ। তাই তারা শুরু থেকেই এটি প্রত্যাখ্যান করে এবং আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই সংগঠনের বিরোধের মূল কারণ আদর্শগত বিরোধের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রভাব, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রভাববলয়কে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সময়ের সঙ্গে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক ক্ষেত্রে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।
তবে প্রতিটি সংঘর্ষের কারণ একই নয়। নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, সেটি তদন্তের ওপর নির্ভর করে এবং বিভিন্ন ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার দায় সম্পর্কে তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।
আজও পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেই জেএসএস ও ইউপিডিএফের নাম উঠে আসে। তবে এই দুই সংগঠনই পার্বত্য চট্টগ্রামের সব বাসিন্দা বা সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে—এমনটি নয়। অঞ্চলটিতে আরও রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন সক্রিয় রয়েছে।
তবে ইতিহাসের দিক থেকে বলা যায়, জেএসএস ও ইউপিডিএফের জন্ম একই সমস্যার ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা থেকে। আর ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সেই মতপার্থক্যই আজও দুই সংগঠনের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিভাজনরেখা।

খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি বা বান্দরবানে সংঘর্ষ, অপহরণ কিংবা গোলাগুলির কোনো ঘটনায় প্রায়ই দুটি নাম শোনা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। তবে অনেকেই জানেন না, দুটি সংগঠনের জন্ম একই প্রেক্ষাপট থেকে হলেও পরে মতপার্থক্যের কারণে তারা আলাদা পথে হাঁটে। কখন জন্ম হয়েছিল এ দুটি সংগঠনের?
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ তাদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ভূমি-অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের আগে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তৎকালীন সরকারের কাছে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের স্বীকৃতি এবং কিছু বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানায়। কিন্তু সেই দাবিগুলো গৃহীত না হওয়ায় পরের বছর একটি নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।
সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ভূমির অধিকার রক্ষা। পরে জেএসএসের সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী গঠিত হয়। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শান্তিবাহিনী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়, যা প্রায় দুই দশক ধরে চলে।
এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও জেএসএস পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মাধ্যমে সশস্ত্র সংঘাতের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। পরে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র জমা দেন এবং জেএসএস মূলধারার রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে শুরু করে।
শান্তিচুক্তি হলেও পার্বত্য অঞ্চলের সবাই এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। একাংশের অভিযোগ ছিল, চুক্তিতে ভূমি, স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যাপ্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এই মতপার্থক্য থেকেই ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর গঠিত হয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের অনেকেই আগে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইউপিডিএফ শুরু থেকেই ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে এবং দাবি করে, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়।
দুই সংগঠনের মূল পার্থক্য হচ্ছে, ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি নিয়ে অবস্থানে তাদের অবস্থান। জেএসএসের মতে, শান্তিচুক্তি পার্বত্য সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের ভিত্তি এবং এর পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
অন্যদিকে ইউপিডিএফ মনে করে, চুক্তিটি অসম্পূর্ণ। তাই তারা শুরু থেকেই এটি প্রত্যাখ্যান করে এবং আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই সংগঠনের বিরোধের মূল কারণ আদর্শগত বিরোধের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রভাব, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রভাববলয়কে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সময়ের সঙ্গে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক ক্ষেত্রে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।
তবে প্রতিটি সংঘর্ষের কারণ একই নয়। নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, সেটি তদন্তের ওপর নির্ভর করে এবং বিভিন্ন ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার দায় সম্পর্কে তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।
আজও পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেই জেএসএস ও ইউপিডিএফের নাম উঠে আসে। তবে এই দুই সংগঠনই পার্বত্য চট্টগ্রামের সব বাসিন্দা বা সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে—এমনটি নয়। অঞ্চলটিতে আরও রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন সক্রিয় রয়েছে।
তবে ইতিহাসের দিক থেকে বলা যায়, জেএসএস ও ইউপিডিএফের জন্ম একই সমস্যার ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা থেকে। আর ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সেই মতপার্থক্যই আজও দুই সংগঠনের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিভাজনরেখা।
.png)

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী তিনিই রাষ্ট্রের প্রধান। অনেকেই মনে করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বড় একটি অংশই রাষ্ট্রপতির হাতে। কিন্তু সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় চিত্রটি ভিন্ন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। ফলে
৮ ঘণ্টা আগে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভূরাজনৈতিক অভিঘাত আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের প্রচলিত কাঠামোকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। রাশিয়াসহ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো এবং তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ডলারের বিকল্পে অর্থ পরিশোধের পথ খুঁজতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো
৯ ঘণ্টা আগে
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব নামটি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় যেমন পরিচিত, তেমনই বিতর্কিত। একদিকে জঙ্গিবাদ, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বাহিনীটির ভূমিকা ছিল; অন্যদিকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে র্যাবকে ঘিরে রয়েছে। এবার সেই র
১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা জুলাই-জুন অর্থবছরের হিসাব পদ্ধতি বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে দেশের সব সরকারি কার্যক্রম চলবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ সময়সীমা অনুসরণ করে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অবশ্য হুট করে কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে একট
১৮ আগস্ট ২০২৬