টানা বৃষ্টিতে ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, ৩ নম্বর সংকেত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৫: ১৮
বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ছবি: সংগৃহীত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজারসহ ওই বিভাগের অন্তত ৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাপাউবো)।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব নৌযানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ‘বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য’ বিরাজ করছে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্ট্রিমকে বলেন, ‘৫ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বায়ুর চাপের ব্যবধান যত বেশি হবে, বাতাসের তীব্রতাও তত বাড়বে। এখন অল্প দূরত্বেই বায়ুচাপের পার্থক্য অনেক বেশি থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে বাতাসের তীব্রতা বেশি। এ কারণেই ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে।’

নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই সিজনে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় হয় না, আর এটি ইতিমধ্যে স্থলভাগের ওপর উঠে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে এর প্রভাবে আগামী ১১ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টি থাকতে পারে, যদিও বাতাস আস্তে আস্তে কমে আসবে।’

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬, টেকনাফে ১৬২, কুতুবদিয়ায় ১৪৯, চট্টগ্রামে ১৩৮ ও সন্দ্বীপে ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন নারায়ণগঞ্জে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বর্তমানে সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও চট্টগ্রাম ও উজানে (মেঘালয় ও ত্রিপুরা) ভারী বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী তিন দিন গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলও।

অন্যদিকে, সিলেট ও ময়মনসিংহের নদ-নদীর পানি বর্তমানে কমলেও আগামী ৭২ ঘণ্টায় তা দ্রুত বেড়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের কিছু স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।

তবে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় আগামী কয়েকদিন বন্যার কোনো শঙ্কা নেই।

Ad 300x250

সম্পর্কিত