হানিফ রাশেদীন

কোনো সমাজে একজন প্রকৃত চিন্তাবিদের উপস্থিতি প্রতিদিন চোখে পড়ে না। তিনি নীরবে মানুষের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করেন, প্রশ্ন করার সাহস জোগান, যুক্তিবোধকে শানিত করেন। তাঁর কাজের প্রকৃত গুরুত্ব অনেক সময় বোঝা যায় তাঁর অনুপস্থিতিতে। তখন উপলব্ধি হয়, সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে তিনি কতটা গভীর ছাপ রেখে গেছেন। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুর সংবাদ সেই উপলব্ধিটিকেই নতুন করে সামনে এনে দিল।
আমাদের সময়ে বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে নানা আলোচনা হয়। কেউ ক্ষমতার কাছাকাছি যান, কেউ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন, কেউ বিতর্কের মধ্য দিয়ে পরিচিত হন। আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন অন্য ধরনের মানুষ। বই, পাঠ ও চিন্তার মধ্যেই তিনি নিজের জগৎ নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল নিরাভরণ, কথাবার্তা সংযত। লেখালেখি ছিল গভীর পাঠ, স্বাধীন বিচারবোধ ও মানবিক দায়বদ্ধতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি নিজেকে নয়, সামনে এনেছেন ধারণা, যুক্তি ও চিন্তাকে।
আমার লেখকজীবনের একটি মূল্যবান স্মৃতি জড়িয়ে আছে তাঁর সম্পাদিত ‘লোকায়ত’ পত্রিকার সঙ্গে। এক সংখ্যায় আমার কয়েকটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। একজন তরুণ কবির কাছে সেটি ছিল স্মরণীয় প্রাপ্তি। নতুন কণ্ঠকে স্বাগত জানানোর এক সহজ স্বভাব ছিল তাঁর। প্রতিষ্ঠিত ও নবীন—এই বিভাজনের চেয়ে লেখার মান ও সম্ভাবনাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাঁর কাছে সাহিত্য ছিল এক চলমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংলাপ।
আরেকটি স্মৃতি জড়িয়ে আছে ‘স্বদেশ চিন্তা সংঘ’-এর সঙ্গে। প্রাবন্ধিক ড. আহমদ শরীফের মৃত্যুর পর তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন শুধু একটি বাড়ি হয়ে থাকেনি; পরিণত হয়েছিল মুক্তবুদ্ধির চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানায়। আহমদ শরীফ যে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর সেটিকে সচল রাখার দায়িত্ব অনেকটাই কাঁধে তুলে নেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তাঁর সভাপতিত্বে প্রতি শুক্রবার সকালে সেখানে বসত স্বদেশ চিন্তা সংঘের আড্ডা।
সেই আড্ডায় আমার প্রথম যাওয়া বন্ধু রণজিৎ সরকারের সঙ্গে। তিনি ছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হকের সরাসরি ছাত্র। দেশ, সমাজ, রাজনীতি, ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতি; সবকিছু নিয়েই সেখানে আলোচনা হতো। সেটি ছিল না আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার আসর, আবার নিছক গল্পগুজবের আড্ডাও নয়। প্রশ্ন, যুক্তি, মতবিনিময় এবং মুক্তচিন্তার চর্চাই ছিল তার প্রাণ।
একসময় প্রায় প্রতি শুক্রবার সেই আড্ডায় যেতাম। নানা বয়সের মানুষ সেখানে আসতেন—শিক্ষক, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, তরুণ পাঠক। সবার অংশগ্রহণে তৈরি হতো প্রাণবন্ত এক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ। এখন ফিরে তাকালে মনে হয়, এমন মুক্ত আলোচনার পরিসর তখনও বিরল ছিল, আজ আরও বিরল।
আজ ভাবি, স্বদেশ চিন্তা সংঘ কেবল একটি সাপ্তাহিক আড্ডা ছিল না; ছিল মুক্তবুদ্ধির চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সেখানে আবুল কাসেম ফজলুল হক মনোযোগ দিয়ে অন্যদের কথা শুনতেন। তারপর ধীরস্বরে নিজের মত প্রকাশ করতেন। তিনি কাউকে পরাস্ত করতে চাইতেন না; আলোচনাকে আরও গভীর করতে চাইতেন। অনেক সময় একটি প্রশ্নই আলোচনার নতুন দিক খুলে দিত। একজন শিক্ষকের মতো তিনি উত্তর চাপিয়ে দিতেন না; চিন্তার দরজা খুলে দিতেন।
কয়েকবার তাঁর বাসায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। চারদিকে বই ও পত্রিকা। কোনো আড়ম্বর নেই, কৃত্রিমতা নেই। গেলেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইতেন। তারপর শুরু হতো আলোচনা। তখন মনে হতো, তাঁর পাঠ ও জীবনবোধ একে অন্যের পরিপূরক। তিনি কখনো সময়ের বাইরে বাস করেননি।
আবুল কাসেম ফজলুল হক সাহিত্য, সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়; সবকিছু নিয়েই গভীরভাবে ভেবেছেন। তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি কোনো বিষয়কে বিচ্ছিন্নভাবে দেখতেন না। সাহিত্যকে সমাজ থেকে, সংস্কৃতিকে রাজনীতি থেকে কিংবা ইতিহাসকে বর্তমান থেকে আলাদা করে বোঝার চেষ্টা করেননি। সবকিছুকে তিনি একটি বৃহত্তর মানবিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে বিচার করেছেন।
স্বাধীন বিচারবোধ ছিল তাঁর চিন্তার অন্যতম ভিত্তি। তিনি কোনো মতাদর্শের অন্ধ অনুসারী ছিলেন না। আবার বিরোধিতার জন্য বিরোধিতাও করেননি। তথ্য, যুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে নিজের অবস্থান নির্মাণ করেছেন। তাই তাঁর সঙ্গে দ্বিমত হওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তাঁকে সহজে উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না।
তাঁর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীর ভূমিকার প্রশ্ন। তিনি মনে করতেন, লেখকের দায়িত্ব ক্ষমতার প্রশস্তি নয়; সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো। সেই দায়িত্বের জায়গা যখন প্রতিষ্ঠা, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার অনুকম্পা দখল করে নেয়; তখন সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রশ্ন তোলার সক্ষমতা হারাতে শুরু করে। আজকের বাস্তবতায় তাঁর এই সতর্কবাণী আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়।
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন গভীর পাঠের বদলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, যুক্তির বদলে শোরগোল, আর সংলাপের বদলে বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে। এই সময়ে আবুল কাসেম ফজলুল হকের জীবন ও কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, চিন্তা একটি ধীর প্রক্রিয়া। সমাজকে বুঝতে হলে তাকে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয়, ভিন্নমত শুনতে হয়, প্রশ্ন করতে হয় এবং যুক্তির প্রতি আস্থা রাখতে হয়। তাঁর জীবন ও লেখালেখি সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছে।
আবুল কাসেম ফজলুল হক চলে গেলেন। কিন্তু তিনি যে চিন্তার পরিসর নির্মাণ করেছিলেন, তা তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে শেষ হয়ে যাওয়ার নয়। তাঁর বই নতুন পাঠকের হাতে পৌঁছাবে। তাঁর প্রবন্ধ নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে। তাঁর ছাত্ররা বহন করবেন তাঁর শিক্ষা। আর যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের স্মৃতিতে তিনি থেকে যাবেন একজন সংযত, নিরহংকার ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় নিবেদিত মানুষ হিসেবে।
একজন চিন্তাবিদের প্রকৃত উত্তরাধিকার তাঁর রেখে যাওয়া বইয়ের সংখ্যায় নয়, তিনি পরবর্তী প্রজন্মকে কতটা ভাবতে শিখিয়েছেন—তাতে। সেই বিচারে আবুল কাসেম ফজলুল হকের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতেও তাঁর চিন্তা আমাদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে। আর সেখানেই একজন মনীষীর প্রকৃত উত্তরাধিকার নিহিত থাকে।

কোনো সমাজে একজন প্রকৃত চিন্তাবিদের উপস্থিতি প্রতিদিন চোখে পড়ে না। তিনি নীরবে মানুষের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করেন, প্রশ্ন করার সাহস জোগান, যুক্তিবোধকে শানিত করেন। তাঁর কাজের প্রকৃত গুরুত্ব অনেক সময় বোঝা যায় তাঁর অনুপস্থিতিতে। তখন উপলব্ধি হয়, সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে তিনি কতটা গভীর ছাপ রেখে গেছেন। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুর সংবাদ সেই উপলব্ধিটিকেই নতুন করে সামনে এনে দিল।
আমাদের সময়ে বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে নানা আলোচনা হয়। কেউ ক্ষমতার কাছাকাছি যান, কেউ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন, কেউ বিতর্কের মধ্য দিয়ে পরিচিত হন। আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন অন্য ধরনের মানুষ। বই, পাঠ ও চিন্তার মধ্যেই তিনি নিজের জগৎ নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল নিরাভরণ, কথাবার্তা সংযত। লেখালেখি ছিল গভীর পাঠ, স্বাধীন বিচারবোধ ও মানবিক দায়বদ্ধতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি নিজেকে নয়, সামনে এনেছেন ধারণা, যুক্তি ও চিন্তাকে।
আমার লেখকজীবনের একটি মূল্যবান স্মৃতি জড়িয়ে আছে তাঁর সম্পাদিত ‘লোকায়ত’ পত্রিকার সঙ্গে। এক সংখ্যায় আমার কয়েকটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। একজন তরুণ কবির কাছে সেটি ছিল স্মরণীয় প্রাপ্তি। নতুন কণ্ঠকে স্বাগত জানানোর এক সহজ স্বভাব ছিল তাঁর। প্রতিষ্ঠিত ও নবীন—এই বিভাজনের চেয়ে লেখার মান ও সম্ভাবনাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাঁর কাছে সাহিত্য ছিল এক চলমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংলাপ।
আরেকটি স্মৃতি জড়িয়ে আছে ‘স্বদেশ চিন্তা সংঘ’-এর সঙ্গে। প্রাবন্ধিক ড. আহমদ শরীফের মৃত্যুর পর তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন শুধু একটি বাড়ি হয়ে থাকেনি; পরিণত হয়েছিল মুক্তবুদ্ধির চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানায়। আহমদ শরীফ যে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর সেটিকে সচল রাখার দায়িত্ব অনেকটাই কাঁধে তুলে নেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তাঁর সভাপতিত্বে প্রতি শুক্রবার সকালে সেখানে বসত স্বদেশ চিন্তা সংঘের আড্ডা।
সেই আড্ডায় আমার প্রথম যাওয়া বন্ধু রণজিৎ সরকারের সঙ্গে। তিনি ছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হকের সরাসরি ছাত্র। দেশ, সমাজ, রাজনীতি, ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতি; সবকিছু নিয়েই সেখানে আলোচনা হতো। সেটি ছিল না আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার আসর, আবার নিছক গল্পগুজবের আড্ডাও নয়। প্রশ্ন, যুক্তি, মতবিনিময় এবং মুক্তচিন্তার চর্চাই ছিল তার প্রাণ।
একসময় প্রায় প্রতি শুক্রবার সেই আড্ডায় যেতাম। নানা বয়সের মানুষ সেখানে আসতেন—শিক্ষক, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, তরুণ পাঠক। সবার অংশগ্রহণে তৈরি হতো প্রাণবন্ত এক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ। এখন ফিরে তাকালে মনে হয়, এমন মুক্ত আলোচনার পরিসর তখনও বিরল ছিল, আজ আরও বিরল।
আজ ভাবি, স্বদেশ চিন্তা সংঘ কেবল একটি সাপ্তাহিক আড্ডা ছিল না; ছিল মুক্তবুদ্ধির চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সেখানে আবুল কাসেম ফজলুল হক মনোযোগ দিয়ে অন্যদের কথা শুনতেন। তারপর ধীরস্বরে নিজের মত প্রকাশ করতেন। তিনি কাউকে পরাস্ত করতে চাইতেন না; আলোচনাকে আরও গভীর করতে চাইতেন। অনেক সময় একটি প্রশ্নই আলোচনার নতুন দিক খুলে দিত। একজন শিক্ষকের মতো তিনি উত্তর চাপিয়ে দিতেন না; চিন্তার দরজা খুলে দিতেন।
কয়েকবার তাঁর বাসায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। চারদিকে বই ও পত্রিকা। কোনো আড়ম্বর নেই, কৃত্রিমতা নেই। গেলেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইতেন। তারপর শুরু হতো আলোচনা। তখন মনে হতো, তাঁর পাঠ ও জীবনবোধ একে অন্যের পরিপূরক। তিনি কখনো সময়ের বাইরে বাস করেননি।
আবুল কাসেম ফজলুল হক সাহিত্য, সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়; সবকিছু নিয়েই গভীরভাবে ভেবেছেন। তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি কোনো বিষয়কে বিচ্ছিন্নভাবে দেখতেন না। সাহিত্যকে সমাজ থেকে, সংস্কৃতিকে রাজনীতি থেকে কিংবা ইতিহাসকে বর্তমান থেকে আলাদা করে বোঝার চেষ্টা করেননি। সবকিছুকে তিনি একটি বৃহত্তর মানবিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে বিচার করেছেন।
স্বাধীন বিচারবোধ ছিল তাঁর চিন্তার অন্যতম ভিত্তি। তিনি কোনো মতাদর্শের অন্ধ অনুসারী ছিলেন না। আবার বিরোধিতার জন্য বিরোধিতাও করেননি। তথ্য, যুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে নিজের অবস্থান নির্মাণ করেছেন। তাই তাঁর সঙ্গে দ্বিমত হওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তাঁকে সহজে উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না।
তাঁর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীর ভূমিকার প্রশ্ন। তিনি মনে করতেন, লেখকের দায়িত্ব ক্ষমতার প্রশস্তি নয়; সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো। সেই দায়িত্বের জায়গা যখন প্রতিষ্ঠা, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার অনুকম্পা দখল করে নেয়; তখন সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রশ্ন তোলার সক্ষমতা হারাতে শুরু করে। আজকের বাস্তবতায় তাঁর এই সতর্কবাণী আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়।
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন গভীর পাঠের বদলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, যুক্তির বদলে শোরগোল, আর সংলাপের বদলে বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে। এই সময়ে আবুল কাসেম ফজলুল হকের জীবন ও কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, চিন্তা একটি ধীর প্রক্রিয়া। সমাজকে বুঝতে হলে তাকে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয়, ভিন্নমত শুনতে হয়, প্রশ্ন করতে হয় এবং যুক্তির প্রতি আস্থা রাখতে হয়। তাঁর জীবন ও লেখালেখি সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছে।
আবুল কাসেম ফজলুল হক চলে গেলেন। কিন্তু তিনি যে চিন্তার পরিসর নির্মাণ করেছিলেন, তা তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে শেষ হয়ে যাওয়ার নয়। তাঁর বই নতুন পাঠকের হাতে পৌঁছাবে। তাঁর প্রবন্ধ নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে। তাঁর ছাত্ররা বহন করবেন তাঁর শিক্ষা। আর যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের স্মৃতিতে তিনি থেকে যাবেন একজন সংযত, নিরহংকার ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় নিবেদিত মানুষ হিসেবে।
একজন চিন্তাবিদের প্রকৃত উত্তরাধিকার তাঁর রেখে যাওয়া বইয়ের সংখ্যায় নয়, তিনি পরবর্তী প্রজন্মকে কতটা ভাবতে শিখিয়েছেন—তাতে। সেই বিচারে আবুল কাসেম ফজলুল হকের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতেও তাঁর চিন্তা আমাদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে। আর সেখানেই একজন মনীষীর প্রকৃত উত্তরাধিকার নিহিত থাকে।
.png)

কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, এটা খ্রিষ্টপূর্ব যুগের খেলা। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের ধারণা, দাবা এই উপমহাদেশেই আবিষ্কৃত হয়েছিল। আজ থেকে ১ হাজার ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ‘চতুরঙ্গ বা শতরঞ্জি’ খেলা হয়েছে, যা দাবা খেলারই অন্য নাম।
১৪ ঘণ্টা আগে
আবার আয়েশা ফয়েজের মৃত্যুর পরে রয়্যালটির একটা অংশ হুমায়ূনের ভাই-বোনেরাও পেতেন, কিন্তু লেখকের ভাই-বোনেরা সেই অংশ নেন না বলে জানিয়েছেন প্রকাশকেরা।
১৯ জুলাই ২০২৬
আমার চোখে প্রায় পানি এসে যাবার মতো অবস্থা হলো। ইচ্ছে করল টিকিট এবং পাসপোর্ট ছুঁড়ে ফেলে তার হাত ধরে বলি—চলো, বাসায় যাই। অল্প কিছুদিন আমাদের আয়ু। এই অল্পদিনের জন্যে আমাদের মতো আয়োজন—পাস, ডিগ্রি, চাকরি, প্রমোশন, টাকা-পয়সা, বাড়িঘর-কোনো মানে হয়? কোনোই মানে হয় না।’
১৯ জুলাই ২০২৬
নব্বই দশক কিংবা দুই হাজার সালের শুরুর প্রজন্ম মানেই বলা হতো হুমায়ূন আহমেদের পাঠক। তখন হাতে হাতে ছিল না স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ছিল সীমিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ছিল না এতো মাতামাতি।
১৯ জুলাই ২০২৬