হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বদ্ধ পরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলা স্ট্রিম
কক্সবাজার

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ০৫
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হামজনিত শিশুর মৃত্যু শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর।

রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে এই রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থতা কিংবা যে কারণেই হোক হাম-রুবেলা প্রতিরোধে প্রচারণা ও নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিতে পারেননি।

সরকার প্রাথমিকভাবে সারাদেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এরমধ্যে উচ্চ সংক্রমণের উপজেলা হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামুতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত
হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কক্সবাজারের এই দুটি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে।

কক্সবাজারে গতকাল একদিনেই হামে সংক্রমিত হয়ে নতুন ভর্তি হয়েছে ২৫ শিশু। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে আছে ৪২ জন। গত ২৪ ঘন্টায় রামু উপজেলার রাজিয়া নামে এক শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

এ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে রামুতে দুজন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে ৭৫ শিশু। রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২৫ জন। এরমধ্যে ভর্তি হয়েছে ২১ জন। গত এক সপ্তাহে জেলায় হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১৩২ জন।

এ ছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালে ৯৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। জেলায় এই সময়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৮৫ জন।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মং টিং ঞো বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশির ভাগ মহেশখালী, রামু ও কক্সবাজার পৌরসভা এলাকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে পৃথক ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ চালু করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জেলার রামু ও মহেশখালী উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হচ্ছ। দুই উপজেলায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

সম্পর্কিত