এমডিদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের স্কোরকার্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
স্ট্রিম প্রতিবেদক

বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) দায়-দায়িত্ব ও কাজ মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের একটি মানদণ্ড কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে মন্দঋণ নিয়ন্ত্রণ, মূলধনভিত্তিক সক্ষমতা, সুশাসন ও আর্থিক স্থায়িত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘কি পারফরম্যন্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই)’ সম্পর্কিত এই নতুন নীতিমালা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কেপিআই স্কোরের ওপর ভিত্তি করেই এমডিদের মূল্যায়ন হবে। তাদের কর্মসম্পাদনের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। ধারাবাহিকভাবে খারাপ পারফরম্যান্স দেখালে তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি আটকে যেতে পারে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে পরিচালনা পর্ষদকে সংশ্লিষ্ট এমডিকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
নতুন নীতিমালায় এমডিদের বেতন-ভাতা, প্রণোদনা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণেও পারফরম্যান্স স্কোর বিবেচনায় নেওয়া হবে। ১০০ নম্বরের মধ্যে তহবিল সুরক্ষা ও তারল্য পরিস্থিতির জন্য ২৫, সম্পদের গুণগত মানের জন্য ২৫, সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে ২৫, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ ও গ্রাহক সেবায় ১৫ এবং মুনাফা অর্জনের ওপর ১০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মূল্যায়নে ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেলে ‘মানসম্মত’, ৬৫ থেকে ৭৫ পর্যন্ত ‘এভারেজ’ বা উন্নতি প্রয়োজন এবং ৬৫-এর নিচে পেলে ‘বিলো এভারেজ’ রেটিং দেওয়া হবে। বিলো এভারেজ নম্বর পেলে সংশ্লিষ্ট এমডিকে অবিলম্বে উন্নতি করার জন্য নোটিশ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই মূল্যায়নে ন্যূনতম ৩০টি কেপিআই নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি প্রধান কেপিআইতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত নম্বর কাটার বিধান রয়েছে। কোনো কেপিআইয়ের নির্ধারিত টার্গেটের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্জিত হলেই কেবল আনুপাতিক হারে নম্বর মিলবে। না হলে মিলবে শূন্য স্কোর।
ছয়টি প্রধান কেপিআই হলো আমানত-ঋণ অনুপাত, মোট ও প্রকৃত খেলাপি ঋণের অনুপাত, বড় ঋণের কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি, খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায় এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। এসব ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স ৫০ শতাংশের কম হলে, প্রাপ্ত মূল নম্বর থেকে ওই কেপিআইয়ের সর্বোচ্চ নম্বরের ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে।
প্রজ্ঞাপন জারির এক মাসের মধ্যে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে বর্তমান এমডির জন্য তিন বছর বা অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা প্রতি ছয় মাস পরপর রোলিং ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে। প্রথম মূল্যায়নের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। অনুমোদিত কেপিআই কাঠামো প্রজ্ঞাপন জারির সাত কার্যদিবসের মধ্যে এবং প্রতি মূল্যায়নকাল শেষে ১৫ দিনের মধ্যে পারফরম্যান্স রিভিউ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সহজে অর্জনযোগ্য টার্গেট না দিয়ে বিগত প্রান্তিকের পারফরম্যান্স, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রত্যাশা, ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক চর্চা বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই লক্ষ্যমাত্রার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। ব্যাংকগুলো চাইলে নিজস্ব ব্যবসায়িক কেপিআই যুক্ত করতে পারলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফ্রেমওয়ার্ক ন্যূনতম আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে বজায় থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে ঋণ, পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তি, আইনি ঝুঁকির মতো বহুমুখী সংকট তৈরি হয়েছে। এসব দূর করতে এবং সম্পদের গুণগত মান ফিরিয়ে আনতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এমডিদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ কমানো ও অবলোপনকৃত ঋণ পুনরুদ্ধারের হিসাব কঠোরভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
নতুন ফ্রেমওয়ার্কে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনাই মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কমানোর পাশাপাশি শতভাগ প্রভিশন বজায় রাখতে হবে এবং শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঋণ পুনরুদ্ধারের হার বাড়াতে হবে।
.png)
-7c29dd-256x144.webp)





