কক্সবাজারে টানা বর্ষণে খালে সেতু ধস, দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় কেয়াকাটা খালে ধসে পড়া সেতু। সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট স্রোতে কেয়াকাটা খালে নির্মিত সেতুটি ধসে গেছে। এতে উপজেলার লেমশীখালী ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) সকালে ৪৩ মিটার দীর্ঘ সেতুটি ধরে পড়ে।

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে কেয়াকাটা খালের পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে গতকাল সোমবার সকালে ধসে পড়ে বলে জানায় স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের দিকে কেয়াকাটা খালের ওপর ৪৩ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করে এলজিইডি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রায় দুই বছর আগে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ায় লেমশীখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাজিরপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে জরুরি সেবাসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাশেম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি একাধিকবার জনপ্রতিনিধিকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

লেমশীখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, সংস্কারের অভাবে সেতুটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলজিইডি উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুছদ্দিন জানান, কেয়াকাটা খালে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো তার অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, কেয়াকাটা খালে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।

Ad 300x250

সম্পর্কিত