পুলিশের সঙ্গে জবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত ১৩

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে পুলিশের সঙ্গে জবি শিক্ষার্থীদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড়ে জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এবং রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের বাসা থেকে জুতা চুরির অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বাসিন্দা মাইকেলের বিরুদ্ধে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করেন। তবে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে মাইকেলকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এর পর কয়েকশ শিক্ষার্থী অভিযুক্ত ও হামলাকারীদের খুঁজতে গেলে তারা একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। শিক্ষার্থীরা বাড়িটি ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই লাঠিচার্জ করে। এতে অন্তত আটজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

আহত সাংবাদিক অপূর্ব বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছবি তুলছিলাম। একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্য আমার ওপর লাঠিচার্জ করেন। এতে আমার পা ও শরীরে আঘাত লাগে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে আমার মাথায় আঘাত লাগে। পরে তিনটি সেলাই নিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর এভাবে লাঠিচার্জের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।

লাঠিচার্জের প্রতিবাদে রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে পুলিশ জুতা চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত মাইকেল এবং আসিকুর রহমান আশিক নামে আরও একজনকে আটক করে।

ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মীর মুহসীন মাসুদ বলেন, জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির তৈরি হয়। আমরা অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় শিক্ষার্থীরা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত