জুলাই ট্র্যাজেডি ও আওয়ামী লীগের বিচার: রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার নতুন মানদণ্ড

ড. খালিদুর রহমান
ড. খালিদুর রহমান

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৬: ০৫
স্ট্রিম গ্রাফিক্স

বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই কেবল একটি মাসের নাম নয়; এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজের গভীরতম সংকটের প্রতীক। সেই সময়ের আন্দোলন, সহিংসতা, প্রাণহানি এবং রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আজও জাতীয় চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অসংখ্য পরিবারের কাছে জুলাই মানে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, আহতদের জন্য দীর্ঘ পুনর্বাসনের সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রের জন্য আইনের শাসন, মানবাধিকার ও জবাবদিহির এক কঠিন পরীক্ষা।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে সংঘটিত সহিংসতা শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। নিহতদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু। একই সময়ে হাজার হাজার মানুষ আহত হন এবং বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ৪৪ জন পুলিশ সদস্যও নিহত হন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলন দমনের সময় অতিরিক্ত ও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ, নির্বিচার গ্রেপ্তার, চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং ভিন্নমত দমনের মতো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ জোর দিয়ে বলেছে, এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই জাতীয় পুনর্মিলনের পূর্বশর্ত।

এসব তথ্য ও পরিসংখ্যান নিছক সংখ্যা নয়; প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন এবং রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। সেই প্রতীক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে সরকার পর্যায়ক্রমে নিহত ও আহতদের তালিকা প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালে বিভিন্ন ধাপে সংশোধনের পর সরকারি গেজেটে জুলাই আন্দোলনের শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে আহতদের তালিকাও ধারাবাহিকভাবে হালনাগাদ করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র স্বীকৃত ‘জুলাই যোদ্ধা’ বা ‘জুলাই আহত’-এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত গেজেটে নতুন করে ১ হাজার ৭৫৭ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নতুন স্বীকৃতদের মধ্যে ১০৯ জন অতিগুরুতর আহত, ২১০ জন গুরুতর আহত এবং ১ হাজার ৪৩৮ জন আহত হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, জুলাই ও আগস্টের ঘটনায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রাথমিক ধারণার চেয়ে বেশি হতে পারে এবং গুমের অভিযোগ নিয়েও পৃথক অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এসব উদ্যোগ কেবল প্রশাসনিক নথিভুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জুলাইয়ের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আত্মত্যাগ, বেদনা ও অবদানের প্রতি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, যা ভবিষ্যতের ইতিহাস রচনায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।

ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ একই ধরনের প্রক্রিয়া নয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ করা যেমন তুলনামূলকভাবে সরাসরি একটি বিচারিক বিষয়, তেমনি একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক দায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, নেতৃত্বের ভূমিকা, সাংগঠনিক নির্দেশনা এবং কার্যকর প্রমাণের বিস্তৃত মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়।

এই বাস্তবতার মধ্যেই গত ৪ জুলাই আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের হতাহতদের ন্যায়বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, বিচারের নামে যেন কারও প্রতি অবিচার না হয়। তাঁর ভাষায়, কিছুটা সময় লাগলেও প্রকৃত অপরাধীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

এই বক্তব্যে দুটি মৌলিক নীতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রথমত, বিচার হবে বাংলাদেশের নিজস্ব সাংবিধানিক ও বিচারিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয়ত, বিচার হবে প্রতিশোধের নয়, আইনের। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা কেবল অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করে না, বরং নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত রাখে। বিচার যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতীক হয়ে ওঠে, তবে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়। কিন্তু বিচার যদি প্রমাণ, আইনি প্রক্রিয়া এবং নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তবে সেটিই রাষ্ট্রের নৈতিক শক্তিকে সুসংহত করে।

জুলাইয়ের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার আজ কেবল একটি আইনি দাবি নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। অতীতের বহু ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এবারের বিচার শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার নিষ্পত্তি নয়; এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

এদিকে একই অনুষ্ঠানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শিগগিরই শুরু হবে। তার মতে, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দলকেও বিচারের আওতায় আনার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারের নজির থাকলেও একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক দায় নির্ধারণের প্রশ্ন এতটা গুরুত্ব নিয়ে আগে সামনে আসেনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনের মাধ্যমে ব্যক্তি ছাড়াও রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত এবং বিচার পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলীয় কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থাও কার্যকর করা হয়েছে।

তবে এখানেই বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ একই ধরনের প্রক্রিয়া নয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ করা যেমন তুলনামূলকভাবে সরাসরি একটি বিচারিক বিষয়, তেমনি একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক দায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, নেতৃত্বের ভূমিকা, সাংগঠনিক নির্দেশনা এবং কার্যকর প্রমাণের বিস্তৃত মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়। ফলে এ ধরনের বিচার অত্যন্ত সতর্কতা, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই পরিচালিত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিচারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই অভিজ্ঞতা বর্তমান সরকারের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। যদি বর্তমান বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, প্রমাণনির্ভর এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তবে সেটি ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক নজির স্থাপন করতে পারে। অন্যথায় বিচার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

আজ বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জুলাইয়ের রক্তাক্ত অধ্যায় কি কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক মোড়ে পরিণত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, তদন্তের নির্ভুলতা এবং আদালতের স্বাধীনতার ওপর।

এই কারণেই তদন্তের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ভিডিওচিত্র, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ডিজিটাল তথ্য, সরকারি নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। তদন্তে তাড়াহুড়ো যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অযৌক্তিক বিলম্বও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে এই ভারসাম্যের ইঙ্গিতই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সময়ের চেয়ে সঠিক বিচারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই বিচার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মনে করে, জবাবদিহি ছাড়া জাতীয় পুনর্মিলন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তারা এ বিষয়েও জোর দিচ্ছেন যে, বিচার অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কোনো বিচারই দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে না।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও খুব স্পষ্ট। তারা এমন একটি বিচার দেখতে চান, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতা কিংবা প্রভাবের কারণে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। আবার কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিও যেন হয়রানির শিকার না হন। আইনের শাসনের প্রকৃত অর্থই হলো অপরাধী শাস্তি পাবে এবং নিরপরাধ সুরক্ষা পাবে। এই দুই নীতির সমন্বয়েই ন্যায়বিচার পূর্ণতা লাভ করে।

আজ বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জুলাইয়ের রক্তাক্ত অধ্যায় কি কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক মোড়ে পরিণত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, তদন্তের নির্ভুলতা এবং আদালতের স্বাধীনতার ওপর। বিচার যদি সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হয়, তবে তা কেবল নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে না; রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জুলাইয়ের ঘটনাবলি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষতের নাম। সেই ক্ষত হয়তো কখনো পুরোপুরি মুছে যাবে না। কিন্তু একটি রাষ্ট্র যদি সত্য উদ্ঘাটন করতে পারে, দায়ীদের আইনসম্মত বিচারের মুখোমুখি করতে পারে এবং একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবিচল থাকে, তবে সেই ক্ষত থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব। ইতিহাসের প্রতিটি কঠিন অধ্যায় শেষ পর্যন্ত একটি জাতিকে নতুন পথ দেখায়। বাংলাদেশের জন্যও জুলাই সেই পরীক্ষার নাম, যেখানে বিজয় নির্ধারিত হবে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার মাধ্যমে নয়, বরং সত্য, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে।

  • ড. খালিদুর রহমান: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক
Ad 300x250

সম্পর্কিত