রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইসির চিন্তায় ২৫ আগস্ট

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২২: ১৭
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবন। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনাররা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এই সাক্ষাতের পর থেকে ইসিতে চলছে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তোড়জোড়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন ধরে ইসিতে প্রস্তুতি চলছে। তফসিল ঘোষণা হতে পারে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে।

স্পিকারের দপ্তর থেকে ফেরার পর মঙ্গলবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলাপ করেন। নানা কথার ফাঁকে তিনি বলেন, ‘সংসদের অধিবেশন না থাকলে তাদের বলা হবে– আমরা তো ঘোষণা দিয়েছি ২৫ তারিখে (আগস্ট) ভোট, আপনারা ভোট দেবেন। এতটা থেকে এতটার মধ্যে, অমুক জায়গায়। যাঁরা ভোটার, তাঁরা ভোট দিতে যাবেন। অধিবেশন ডাকার কোনো প্রয়োজন নেই।’

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার নিয়োগ করা ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী, এই দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পরেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুরো নির্বাচন কমিশন।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে যেকোনো একটি তারিখ নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনাররা। সিইসিসহ অধিকাংশ কমিশনার ২৫ আগস্টে জোর দেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তাদের প্রস্তাবে দ্বিমত করেননি।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আইন অনুযায়ী, অন্তত সাত দিন সময় নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এখন আমরা এক মাস দিয়ে করতে পারি; ১৫ দিনও দিতে পারি। সংসদ নির্বাচনের মতোই হবে। আমরা প্রথমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটারের (সব সংসদ সদস্য) আহ্বান করব– আগ্রহীরা এই সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেবে। একদিন বাছাই, একদিন প্রত্যাহারের জন্য এবং একদিন ভোটের জন্য ঠিক করব। তিন দিনে তিনটি কার্যক্রম হবে। বাছাইয়ের দিনে একক প্রার্থী এবং তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁকেই নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, তবে ওইদিন একাধিক প্রার্থী এবং সবার মনোনয়ন বৈধ হলে প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রত্যাহারের দিনে একক প্রার্থী থাকলে, তাঁকেই নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। এর ব্যত্যয় হলে ভোটগ্রহণ হবে। সংসদের সদস্যরা ভোটদানে অংশ নেবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে এই কমিশনার বলেন, সংসদ কক্ষেই ভোট হবে। এজন্য সংসদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে। অধিবেশন ডাকার এখতিয়ার সিইসির নেই। কিন্তু তিনি সদস্যদের ভোটদানের জন্য আহ্বান করতে পারবেন এবং নির্ধারিত দিন ও সময়ে ভোট হবে।

এই আলাপেরই একপর্যায়ে তিনি ২৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা জানান। কমিশন সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে যেকোনো একটি তারিখ নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনাররা। সিইসিসহ অধিকাংশ কমিশনার ২৫ আগস্টে জোর দেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তাদের প্রস্তাবে দ্বিমত করেননি।

জানতে চাইলে বুধবার (২৯ জুলাই) আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমকে বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন প্রতিনিধি ঠিক করার জন্য আলোচনার প্রয়োজন হয়। সবাই জানে কোন দল থেকে রাষ্ট্রপতি হবে, রেজাল্ট তো এক প্রকার হয়েই আছে, শুধু লোকটা এখনো সিলেক্ট হয়নি। এখন উনারা লোক সিলেক্ট করলেই আমাদের কাজ শুরু। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা প্রস্তুত। সরকার বা দলগুলো যখন জানাবে, আমরা ব্যবস্থা নেব।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ব্যাপারে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংবিধান মেনে ৯০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিজে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত