৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ইসিতে তফসিলের প্রস্তুতি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবন। ছবি: সংগৃহীত

মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের কারণে শূন্য রাষ্ট্রপতি পদ। সংবিধানের নির্দেশনা মেনে, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন। পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ মেনে তারা পদ শূন্য হওয়ার নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ অনুসরণ করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকবেন। বিদ্যমান সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৩৫০ সদস্য এই নির্বাচনের ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন। সে অনুযায়ী ইসি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা তৈরি করে তা চূড়ান্ত করবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরপরই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন পরিচালনা করা হবে অনেকটা সংরক্ষিত নারী আসনের পদ্ধতির মতো। প্রার্থী একাধিক হলে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ হবে। আর একক প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংসদ সচিবালয়
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংসদ সচিবালয়

তিনি আরও বলেন, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কমিশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী রোববার বা পরবর্তী দিনে তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক করবে ইসি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেশবাসী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল জানতে পারবে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর যোগ্যতা প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং অযোগ্যতার কারণগুলো থেকে মুক্ত থাকতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রেও আইনে ন্যূনতম ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য প্রযোজ্য যোগ্যতা ও অযোগ্যতা-সংক্রান্ত শর্তগুলো রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। সে হিসাবে তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই পদত্যাগ করলেন সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের আগে সাহাবুদ্দিন ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের সর্বোচ্চ একটি পদে থাকাবস্থায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ পান সাহাবুদ্দিন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন হয়। এরপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ পাওয়া সাহাবুদ্দিন বিগত দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন এবং ৮ আগস্ট অন্তবর্তী সরকারের শপথ পড়ান।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত