আবু সাঈদ হত্যা
স্ট্রিম প্রতিবেদক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার। রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বসবে বেলা সাড়ে ১১টায়। দুপুরে আবু সাঈদ হত্যার রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। অন্য দুই সদস্য হলেন– বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গত ৫ মার্চ একই ট্রাইব্যুনাল রায়ের এই তারিখ ধার্য করেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই মামলার মোট ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার ছয়জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রায় শুনতে ট্রাইব্যুনালে এসেছেন শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। তারা জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ও তা দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাই– আবুল হোসেন ও রমজান আলী। আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আজই রায় হবে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসির রায় চাই এবং রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।’
মামলার বেশির ভাগ আসামি পলাতক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিংহভাগ আসামি পলাতক। আমরা আশা করছি, রায়ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করবে।’
এতদিনের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আবু সাঈদের আরেক ভাই মামলার বাদী রমজান আলী বলেন, ‘প্রথম থেকেই বলে আসছি– আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় যেন দ্রুত হয়। এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ, আজ মামলার রায় হবে। একটি সুষ্ঠু রায় হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করবে।’
ট্রাইব্যুনালে ৬ আসামি
সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন– বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গত মঙ্গলবার ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। সারা জাতি, পৃথিবীর সব মানুষ সেটা অবলোকন করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের তদন্তেও এর অকাট্য প্রমাণ এসেছে। এ মামলায় যাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে, তারা (প্রসিকিউশন) বিশ্বাস করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে। তারা প্রত্যাশিত রায় পাবেন।
এই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আছেন আজিজুর রহমান দুলু।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকের পাশাপাশি পটভূমির সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ ছাড়া প্রমাণ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন।
আবু সাঈদের মামলার ৩০ আসামির মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ২৪ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন– রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন, আর পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার। রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বসবে বেলা সাড়ে ১১টায়। দুপুরে আবু সাঈদ হত্যার রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। অন্য দুই সদস্য হলেন– বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গত ৫ মার্চ একই ট্রাইব্যুনাল রায়ের এই তারিখ ধার্য করেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই মামলার মোট ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার ছয়জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রায় শুনতে ট্রাইব্যুনালে এসেছেন শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। তারা জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ও তা দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাই– আবুল হোসেন ও রমজান আলী। আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আজই রায় হবে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসির রায় চাই এবং রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।’
মামলার বেশির ভাগ আসামি পলাতক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিংহভাগ আসামি পলাতক। আমরা আশা করছি, রায়ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করবে।’
এতদিনের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আবু সাঈদের আরেক ভাই মামলার বাদী রমজান আলী বলেন, ‘প্রথম থেকেই বলে আসছি– আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় যেন দ্রুত হয়। এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ, আজ মামলার রায় হবে। একটি সুষ্ঠু রায় হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করবে।’
ট্রাইব্যুনালে ৬ আসামি
সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন– বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গত মঙ্গলবার ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। সারা জাতি, পৃথিবীর সব মানুষ সেটা অবলোকন করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের তদন্তেও এর অকাট্য প্রমাণ এসেছে। এ মামলায় যাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে, তারা (প্রসিকিউশন) বিশ্বাস করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে। তারা প্রত্যাশিত রায় পাবেন।
এই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আছেন আজিজুর রহমান দুলু।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকের পাশাপাশি পটভূমির সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ ছাড়া প্রমাণ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন।
আবু সাঈদের মামলার ৩০ আসামির মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ২৪ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন– রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন, আর পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১৬ মিনিট আগে
ফোন পেয়ে আমার বোন কোনো কথা বলতে পারেননি। হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন। তখন আমি ফোনটি নিয়ে তাদের জানাই– পিআইসিইউতে শয্যা না পেয়ে নেহা দুপুরে মারা গেছে।
২৬ মিনিট আগে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তারা হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যায়।
১ ঘণ্টা আগে
মানবপাচার মামলায় ভারতে সাজা পেয়েছেন চার বাংলাদেশি। বুধবার (৮ এপ্রিল) দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) একটি বিশেষ আদালত তাদের তিন বছরের কারাদণ্ড দেন।
২ ঘণ্টা আগে