সরকারি প্রকল্পের লোগো ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ, সনদ নিয়ে অনিশ্চয়তা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ে সরকারি প্রকল্পের নাম ও লোগো ব্যবহার। স্ট্রিম ছবি
পঞ্চগড়ে সরকারি প্রকল্পের নাম ও লোগো ব্যবহার। স্ট্রিম ছবি

পঞ্চগড় সরকারি প্রকল্পের নাম ও লোগো ব্যবহারে করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি নামে একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি ওই প্রতিষ্ঠানের অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। ফলে সনদ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার পোস্ট অফিস সংলগ্ন একটি ভবনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীরা জানান, প্রচার-প্রচারণায় বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এএসএসইটি (অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ট্রান্সফরমেশন) প্রকল্পের নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে তাঁরা সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করে সেখানে ভর্তি হন।

তবে এএসএসইটি প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি প্রকল্পটির আওতাধীন নয়। প্রকল্পের নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী দেখা যায়। তাঁরা জানা, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ভর্তি শিক্ষার্থীরা এখনও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী, তিন মাসের এই প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার কথা থাকলেও চার মাসের বেশি সময় পার হয়েছে। পরীক্ষা না হওয়ায় সনদ পাচ্ছেন না তাঁরা।

ঠিকমতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষণার্থী। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয় ও পরীক্ষার কার্যক্রম নিয়েও তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে কী খাতে টাকা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি।

পরীক্ষা ও সনদ না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের এনএসডিএ সনদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রশিক্ষণার্থী পুণ্য আলমগীর বলেন, আমরা নিয়ম মেনে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণ শেষে কোনো হয়নি, কবে হবে তা-ও আমাদের জানানো হয়নি। জানতে পারি, আমাদের নাম তালিকায় নেই। আমরা নাকি পরীক্ষা দিতে পারব না।

প্রশিক্ষণার্থী আতিক ফয়সাল বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন পরীক্ষা না হলে সার্টিফিকেট পাব কীভাবে? সম্প্রতি পরীক্ষার একটি তারিখ দেওয়া হয়। আমাদের পঞ্চগড় থেকে রংপুরে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এনএসডিএ-এর সহকারী পরিচালক (মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল), প্রশাসন-১-এর মহিন উদ্দিন বাহার জানান, এই নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন রয়েছে। কিন্তু কেন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি, এ বিষয়ে দেখতে হবে। যারা আবেদন করেছে, তাদের সবাই পরীক্ষা দিয়েছে। তারা হয়তো আবেদন করেননি।

সরকারি এএসএসইটি প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক-১ প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত জানান, আমাদের নাম করে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। এই প্রতিষ্ঠান এএসএসইটি প্রকল্পের আওতাধীন নয়। তারা আমাদের না জানিয়ে অবৈধভাবে লোগো ব্যবহার করে থাকলে এটি এক ধরনের প্রতারণা।

পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমির সোমা আক্তার জানান, আমরা এখনো পরীক্ষার অনুমতি পাইনি। এ জন্যই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শিগগিরই রংপুরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকুরিয়া পারভীন জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত