ভবনে প্রতিবন্ধীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে হাইকোর্টের রুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ১৯: ৪৮

সরকারি ও বেসরকারি ভবনে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার আইনি বিধান মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সাথে ভবনগুলোতে কেন র‍্যাম্প নির্মাণ করা হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেন। তিনি নিজেই আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন।

শুনানি শেষে ফাহমিদা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় আইন আছে। এমনকি আমাদের সংবিধানেও নিশ্চয়তা দেওয়া আছে যে প্রতিবন্ধকতা কোনো বৈষম্যের কারণ হতে পারে না। কিন্তু এরপরও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবং তাঁদের গৃহবন্দী থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একজন মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হবেন কি না, সেটি তাঁর হাতে নেই। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে বাঁচবেন, সেই পছন্দ করার সুযোগ একজন নাগরিকের থাকা উচিত। অথচ আমাদের দেশের পরিকাঠামো কোনোভাবেই তাঁদের বিশেষ চাহিদাকে পূরণ করতে পারছে না।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এই রুল জারি করেন। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮-এর ৬৪ বিধি কেন মেনে চলা হচ্ছে না এবং এই ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সাথে সরকারি-বেসরকারি ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের আগে রাজউক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশের জন্য সুযোগ-সুবিধা ও অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করবে না, রুলে তা-ও জানতে চেয়েছে আদালত।

এ ছাড়া সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি ভবনগুলোতে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য কেন ‘র‍্যাম্প’ স্থাপন করা হবে না, সে বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার বলেন, শারীরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পরিকাঠামোগত সুযোগের অভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারছেন না। এর ফলে সমাজের একটি বড় অংশ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যা আমাদের সংবিধান কোনোভাবেই সমর্থন করে না। তাই জনস্বার্থে এই রিটটি করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত