বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থানান্তর: ২ সচিবকে আদালত অবমাননার নোটিশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ২১: ০৭
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে শিশির মনির। ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরের পক্ষে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশ পাওয়া দুজন হলেন- আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।

নোটিশে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের কার্যক্রম থেকে বিরত না থাকলে হাইকোর্টে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। সে অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি হয় এবং ১১ ডিসেম্বর সচিবালয়টি উদ্বোধন করে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পুরোদমে কাজ শুরু হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন’ পাস হয় এবং এরপর সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা আদালতের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন।

বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘মাসদার হোসেন মামলার রায়ে এটি প্রথম নির্দেশনা হিসেবে আসে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট রায় দেন, ৯০ দিন বা তিন মাসের ভেতর পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

অধ্যাদেশ বাতিল হলেও হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এরপরও সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের নির্বাহী বিভাগের এমন পদক্ষেপকে ‘আদালতের রায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল’ জানিয়ে শিশির মনির বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা এখনও বহাল আছে। সুপ্রিম কোর্টে তা স্থগিত হয়নি। এই আদেশ থাকা সত্ত্বেও তারা বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থানান্তর করছেন এবং সবকিছুকে আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করার আদেশ দিচ্ছেন।’

সরাসরি মামলা না করে আগে নোটিশ কেন দেওয়া হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আইনের বিধান হলো কারও বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার চার্জ আনতে গেলে আগে নোটিশ দিয়ে সতর্ক করতে হয়। এটি হলো আমাদের সতর্ক বার্তা। তারা যদি এই কাজ থেকে বিরত না হন, তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা হাইকোর্টের উপযুক্ত বেঞ্চে কনটেম্পট পিটিশন করব।’

সম্পর্কিত