বন্যার পানিতে অবরুদ্ধ ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, পৌঁছায়নি সহায়তা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ২০: ৪০
মৌলভীবাজারে দুই পরিবারের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এগার সদস্য। স্ট্রিম ছবি
মৌলভীবাজারে দুই পরিবারের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এগার সদস্য। স্ট্রিম ছবি

হাওরপাড়ে বাড়ি। চারদিকে বন্যার থৈ থৈ পানি। ঘর থেকে বের হওয়ার পথ নেই। চোখে আলো নেই, তাই নিজেরাই জানেন না কোথায় কোন বিপদ অপেক্ষা করছে। সাহায্যের আশায় দিন গুনলেও কেউ পৌঁছায়নি তাদের কাছে। এমন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন দুটি পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরপাড়ের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে একই বাড়ির বাসিন্দা ওই প্রতিবন্ধী পরিবার। বন্যাকবলিত গ্রামটিতে প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অবস্থায় আছেন তাঁরা।

তাদের মধ্যে একটি পরিবারের ফখরুল মিয়া, তাঁর স্ত্রী সুফি বেগম, তাঁদের ছেলে কামাল মুন্সি, সোহান মিয়া ও মেয়ে শারমিন বেগম জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আরেক পরিবারে ফখরুল মিয়ার ভাই জগলু মিয়া, ভাতিজি ফাইজা বেগম, আনিকা, ভাতিজা সাজক মিয়া, লাউল মিয়া ও আকবর আলী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। এই পরিবারে শুধু জগলু মিয়ার স্ত্রী কবিতুন বেগমের দৃষ্টিশক্তি আছে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, দৃষ্টিশক্তিহীন এই মানুষগুলো অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করেন। কাজ করার সক্ষমতা না থাকায় অন্যের সহযোগিতাই তাদের প্রধান ভরসা। সাম্প্রতিক বন্যায় সেই সহায়তার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তাদের স্বজনরাও বাইরে গিয়ে সাহায্যের আবেদন করতে পারছেন না। এতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে না তাঁরা।

বাড়ির প্রবীণ সদস্য কবিতুন বেগম বলেন, ‘এই বাড়ির অনেকেই জন্ম থেকেই অন্ধ। তাদের জীবন এমনিতেই কষ্টের। এখন বন্যায় সেই কষ্ট আরও বেড়েছে। বিত্তবান মানুষ পাশে দাঁড়ালে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে।’

মৌলভীবাজারে দুই পরিবারের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এগার সদস্য। স্ট্রিম ছবি
মৌলভীবাজারে দুই পরিবারের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এগার সদস্য। স্ট্রিম ছবি

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুফি বেগম বলেন, আমি কোনো কাজ করতে পারি না। আগে অন্ধত্ব নিয়েও মানুষের বাড়িতে যেতাম। তারা যে সাহায্য করত, তা দিয়েই কোনোভাবে চলতাম। কিন্তু বন্যার পর থেকে কেউ আসতে পারে না, আমরাও কোথাও যেতে পারি না। একবেলা খেতে পারলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কামাল মুন্সি বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই আমরা অন্ধ। অনেক চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসক বলেছেন, আমাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না। এরপর থেকে আর চিকিৎসাও করানো হয়নি। এখন বন্যার কারণে খুব কষ্টে দিন কাটছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন আহমদ জানান, দুটি পরিবারে ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর মধ্যে আটজন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত ভাতা পান। তবে বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ও বাড়ির চারদিকে পানি থাকায় তাদের কাছে সহজে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

রাজনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান বলেন, দুই পরিবারের ১১ জনের তিনজনের আবেদন না থাকায় এখনো ভাতার আওতায় আসেননি। আবেদন করা হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বিশেষ সহায়তা এলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমরা খোঁজ নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নগদ সহায়তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তাদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত