মৌলভীবাজারে চার উপজেলায় পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ, একজনের মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। সংগৃহীত ছবি

টানা ভারী বৃষ্টি এবং ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার দেখা দিয়েছে। ১৭ ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

প্রাণহানিও হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বন্যার পানিতে ডুবে রাজনগর উপজেলায় আশরাফ মিয়া নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।

এদিকে, বন্যায় হাজারো বাড়িঘর, কৃষি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। ধান, সবজি ও মাছচাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও গোখাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৫টায় মনু নদীর চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। উজানে পানি কমতে শুরু করলে ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢোকা অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।

রাজনগরের টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নের বহু গ্রাম এখনো পানির নিচে রয়েছে। কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্রায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা হয়েছে। কুলাউড়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও পানি প্রবেশ করেছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ হচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, ‘মনু নদীর আরও চার-পাঁচটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেগুলো রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, ‘চার হাজার ১৭৫ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। ত্রাণ বিতরণও চলছে।’

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত