leadT1ad

রাবিতে গণভোটের সভায় হঠাৎ ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের’ নাম ঘোষণা রাকসু জিএস আম্মারের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৫৫
সভায় হঠাৎ মঞ্চে ওঠে ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের’ নাম ঘোষণা করেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। স্ট্রিম ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় হঠাৎ ক্ষুব্ধ হয়ে ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের’ নাম ঘোষণা করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। সভায় আওয়ামীপন্থি শিক্ষক বক্তব্য দেওয়ায় এবং উপস্থিত থাকায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় আম্মার বলেন, ‘অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টদের সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে।’

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এই ঘটনা ঘটে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যৌথ আয়োজনে গণভোট বিষয়ক এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা। তাঁর বক্তব্যের পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। পরে তিনি কিছু কাগজ হাতে মঞ্চের সামনে আসেন। তিনি সঞ্চালনা করতে থাকা রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদের কাছে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ১ মিনিট সময় চান। তবে সঞ্চালক তাঁর অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি ও রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের কাছে অনুরোধ করেন আম্মার। পরে উপাচার্য তাঁকে কথা বলার অনুমতি দেন।

আম্মার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে এমন মানুষও বসে আছেন যারা জুলাইয়ে নীরব ছিলেন। এখানে এমন মানুষও আছেন যারা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরি করেছেন। এর মধ্যে পুন্ড্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও আছেন।’ পরে তিনি তাঁর হাতে থাকা কাগজ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী কয়েকজন শিক্ষকের নাম প্রকাশ করতে চান। এ সময় সঞ্চালক মঞ্চ থেকে তাঁকে নিষেধ করেন। তবে আম্মার না থেমে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারসহ কয়েকজন শিক্ষকের নাম ঘোষণা করতে থাকেন। একপর্যায়ে সঞ্চালক চেয়ার থেকে উঠে এসে আম্মারকে থামার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘আম্মার, অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।’

আম্মার প্রত্যুত্তরে বলেন, ‘অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টদের সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে। এটা আমাকে বলতে দিতে হবে। না হলে জুলাইয়ের আহত ও শহীদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যেতে হবে।’ পরে উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব চেয়ার ছেড়ে এসে আম্মারকে থামান। তিনি অনুষ্ঠান শেষে আম্মারের কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। উপাচার্যের আশ্বাসে অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নাম প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান আম্মার।

মতবিনিময় সভা শেষে সালাহউদ্দিন আম্মার সেখানে আবারও উপস্থিত হন। ওই মঞ্চেই তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন এবং ১৬১ জন শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেন। জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে ওই শিক্ষকদের বিভিন্ন ভূমিকার অভিযোগ তোলেন তিনি। এ ছাড়া আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সভার বাইরে অবস্থানের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

আম্মারের তালিকায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার এবং সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর। তালিকায় আরও আছেন সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবায়দুর রহমান প্রামাণিক, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, আইসিটি সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা এবং শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আম্মার জুলাই আন্দোলনে অর্থায়ন, নেতিবাচক বয়ান তৈরি, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার মদদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।

কর্মসূচি ঘোষণা করে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের একটি সভা রয়েছে। ওই সভায় এই ১৬১ জন শিক্ষকের বিচারের কোনো সিদ্ধান্ত না আসলে আমরা সভা শেষ হতে দেব না। সকল শিক্ষার্থীর প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা আমার সঙ্গে সংহতি জানাবেন। শিক্ষার্থীরা না থাকলেও আমার একা দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও আমি অবস্থান করব।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত