এআই বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে: আইনমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৩২
বক্তব্য দিচ্ছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংগৃহীত ছবি
বক্তব্য দিচ্ছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআইয়ের প্রভাব ও অপব্যবহার থেকে বিচারব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে বিচারকদের এআই সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’ শীর্ষক পাঁচ দিনব্যাপী নির্বাহী প্রশিক্ষণের সমাপনী পর্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সহযোগিতায় ছিল ‘লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ’ ও ‘দ্য সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই’।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব এআই যুগে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এআই ব্যবহারের ঝুঁকি এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এখনো যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি। কোনো বিচারককে এআইয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে তার প্রভাব বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর পড়তে পারে। তাই বিচারকদের সবার আগে এআই সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো তথ্য বা উপাদান এআই-নির্ভর কি না, সে বিষয়টিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। যথাযথ আইন ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা প্রয়োগ করতে হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এআই নিষিদ্ধ করার কোনো চিন্তা সরকারের নেই। বরং এআইয়ের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অপব্যবহার যাতে না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।

এআই নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন ও নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গঠনমূলক সমালোচনা ও মতামতের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করা সম্ভব।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান প্রমুখ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত