কক্সবাজারে খাবার পানির জন্য হাহাকার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

পানিবন্দি কক্সবাজারের মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় তলিয়ে গেছে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম। চারিদিকে অথৈ পানি। অথচ খাবার পানির জন্য হাহাকার।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে এক গৃহবধূ ও পেকুয়ায় বন্যার পানিতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধস, পানিতে ডুবে ও দেয়ালচাপায় ১৫ রোহিঙ্গাসহ অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হলো।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবুদল হান্নান জানান, রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ায় কক্সবাজারসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরের সংকেত নামিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে সেন্টমার্টিন ও মহেশখালীর নৌরুটে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

গত পাঁচ দিন ধরে রেলপথে পানি ওঠায় দেশের প্রধান পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বিমানবন্দরেও উড়োজাহাজ ওঠানামা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বৃষ্টি ও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খেতখামার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় পানিতে ডুবে আছে। পানিবন্দি মানুষ খাবার-দাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন।

জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, বন্যাকবলিত মানুষজনকে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্নাকরা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় সরকারিভাবে ৪৫০ টন চাল, নগদ ৩০ লাখ টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করা লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে সচেতনতামূলক প্রচারা চালানো হচ্ছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত