নওগাঁয় ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনা

কনস্টেবল এমরানের বিচ্ছিন্ন পা বরফের কার্টনে, নেওয়া হচ্ছে ঢাকায়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নওগাঁ ও রাজশাহী

আত্রাইয়ে দুর্ঘটনার পর কনস্টেবল এমরান মিয়াকে হাসপাতালে নেন স্থানীয়রা। সংগৃহীত ছবি

নওগাঁর আত্রাইয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে এমরান আলী (২৫) নামে পুলিশের এক কনস্টেবলের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে গেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম। উন্নত চিকিৎসার তাঁকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অ্যাম্বুলেন্স থাকা কনস্টেবল এমরান আলীর শ্বশুর আব্দুল খালেক জানান, দুর্ঘটনায় তাঁর বাম পা পুরোটিই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ডান পা একটু লেগে আছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা বিচ্ছিন্ন পা নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই একটি কার্টনে বরফ দিয়ে বিচ্ছিন্ন পা ও রোগী নিয়ে তারা ঢাকায় রওনা দিয়েছেন। তাকে প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

এমরান মিয়ার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর। তিনি বর্তমানে বাগেরহাটে কর্মরত। তাঁর শ্বশুর বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তারাটিয়া গ্রামে। গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে তিনি আত্রাইয়ে শ্বশুর বাড়িতে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

এমরান আলীর বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক। এক মেয়ে ও চার ছেলের মধ্যে এমরান সবার ছোট। এমরানের বড় মেয়ে ৭ বছরের তাসমিন মানসিক প্রতিবন্ধী। ছোট ছেলে ইয়াসিনের বয়স ৩ বছর বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

দুপুরে আব্দুল খালেক জানান, তাঁর ছেলে নেই, তিনটি মেয়ে। ৯ বছর আগে তাঁর মেয়েকে বিয়ে করেন এমরান। মেয়ের জামাতারাই ছেলের মতো তাঁর খোঁজ-খবর রাখেন। কিছুদিন ধরে তাঁদের জায়গাজমি সংক্রান্ত জটিলতা চলছে। এসব বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এমরানকে ডেকেছিলেন তিনি। আসার সময় ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আত্রাই থানার ওসি জানান, রাতে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকালে আত্রাই স্টেশনে পৌঁছালে কিছুটা গতি কমায়। এ সময় তিনি লাফ দিয়ে নামতে গেলে স্টেশন থেকে নিচে পড়ে যান। এতে তাঁর দুই পা হাঁটু থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ওসি আব্দুল করিম জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা এমরান মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠানো হয়।

এদিকে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আজ (সোমবার) সকালে আহত পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তাঁকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাই তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে তাঁরা রোগীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

দুপুর ৩টার দিকে কনস্টেবল এমরানকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্স নাটোর পৌঁছে। তাঁর সঙ্গে থাকা শ্বশুর আব্দুল খালেক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই এমরানকে রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তিন ব্যাগ স্যালাইনও দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেও রক্ত ও স্যালাইন চলছে।

সম্পর্কিত