দেশ অস্থিতিশীল করার শক্তি আ.লীগের নেই: ডা. জাহেদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৩৭
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: পিআইডি

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার বক্তব্য ও উসকানিতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, অর্থের জোরে কয়েকজনকে দিয়ে কিছু করানোর চেষ্টা থাকতে পারে। কিন্তু এদেশে বড় ধরনের কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার সক্ষমতা বা নৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের নেই।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, ভারতে বসে যারা এসব করছেন, তাদের অনেকেই মামলার আসামি। কারও বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, কারও সাজা হয়েছে। বাংলাদেশের কাছে তাদের হস্তান্তরের বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিত উত্থাপন করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতাসহ যাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে শুরু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বন্ধ কিনা– প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু বিচার চলছে কিনা– এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য আমার কাছে নেই। তবে বন্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানাব।’

নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের (২৮) মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার তদন্ত করছে। দেশি-বিদেশি কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদনেও ঘটনার বিষয়ে কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মীদের জীবনও মূল্যবান। তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক। তবে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড বর্তমানে নিষিদ্ধ। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, তাহলে তারা আবার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে করিডর, আনোয়ারা ও মোংলা বন্দর-সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে ডা. জাহেদ বলেন, ‘প্রস্তাব এসেছে। করিডর এবং মোংলা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। এর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা (ভায়াবিলিটি) আছে কিনা এবং বাংলাদেশের জন্য কতটা উপকারী হবে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, আগের আওয়ামী লীগ সরকার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করত নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। ফলে দেশের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘করিডরের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধসহ নানা অনিশ্চয়তা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেটি অর্থনৈতিকভাবে আমাদের জন্য কতটা লাভজনক হবে, তা বিবেচনা করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই কথা মোলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।’

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় তথ্য মন্ত্রণালয় যথেষ্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ডিবাঙ্ক করছি, ফটোকার্ড তৈরি করছি। তবে মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় একটি বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সেখানে নিবেদিত একটি টিম থাকবে এবং প্রয়োজনে রাতের শিফটে কাজ করবে। কিছু কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ মিনিটও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত তথ্য যাচাই করে বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এখন শুধু ফটোকার্ড নয়, ভিডিওসহ বিভিন্ন মাধ্যমেও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত