আইসিজির প্রতিবেদন

বিএনপি সরকারকে রোহিঙ্গা নীতি ঢেলে সাজাতে হবে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে শুধু প্রত্যাবাসনের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)।

বুধবার (৭ জুলাই) সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক দশক ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশকে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোহিঙ্গা নীতি পুনর্গঠন করতে হবে। শুধু প্রত্যাবাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা এবং চীন মধ্যস্থতা করলেও, একজন রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরতে পারেননি। এর মূল কারণ ছিল নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া।

আইসিজি বলেছে, রোহিঙ্গাদের চলাচল, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কারণে বিদেশি সহায়তার ওপর তাদের নির্ভরতা বেড়েছে। শরণার্থী শিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে শরণার্থী শিবিরের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় খাদ্যসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংকুচিত হয়েছে। নতুন রোহিঙ্গার আগমন ও প্রতিবছর হাজারো শিশুর জন্মে জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সীমিত পরিসরে বৈধ কর্মসংস্থান ও ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইসিজি। এতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা তৈরি হবে। শরণার্থী শিবিরে গ্রহণযোগ্য বেসামরিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা, নারী নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব কমানোর ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশকে শুধু মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর নির্ভর না করে সেখানে প্রভাবশালী শক্তি আরাকান আর্মির সঙ্গেও বাস্তবভিত্তিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। তবে এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আইসিজি বলেছে, রাখাইনে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। তাই দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় শিবির ব্যবস্থাপনা উন্নত, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতার সঙ্গে কূটনৈতিক কৌশল সমন্বয় করা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত