বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত অভিযানে বিএনপি নেতার বাধা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ২২: ০৪
দেলভাষানি খালের প্রবেশমুখে দখলদারদের দেওয়া বাঁধ। ছবি: স্ট্রিম

বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানি খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে দখলদারদের বাধার মুখে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করেছে প্রশাসন। খাল কেটে দিলে মাছ চাষিদের ক্ষতি হবে- দখলদারদের এমন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মাছ তুলে নেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দিয়েছে প্রশাসন।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার গোমতি এলাকায় দেলভাষানি খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান চালাতে জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত হন।

উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন প্রশাসনের কাছে খাল না কাটার অনুরোধ জানান। তারা খালটিতে পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাছ চাষ করেছেন বলে দাবি করেন। পরে ঘটনাস্থলে যান বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। তাদের কাছে দখলদাররা খাল থেকে মাছ ধরে নিতে কিছুদিন সময় চান।

শেষ পর্যন্ত প্রশাসন তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করে দখলদারদের ১৫ দিনের সময় দেন। এ সময়ের মধ্যে মাছ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

সেলিম কাজী দাবি করেন, তিনি খাল দখল করেননি। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্রদল, যুবদল ও দলের অন্য নেতাকর্মীরা খালটি দখল করেছেন।’

এ বিষয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, ‘দেলভাষানি খালে দখলদাররা মাছ চাষ করেছেন। তাদের আবেদনের পর মানবিক ও কৌশলগত দিক বিবেচনায় ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর খাল সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হবে।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেলভাষানি খালের দখল উচ্ছেদে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের ৭৫টি ইউনিয়নে ছোট-বড় কয়েকশ সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত