জঙ্গল সলিমপুরে আর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ১৫: ০৩
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্ট্রিম ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৩১ মে) জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

গত ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে ওই সময় প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী গুলি বিনিময়ও হয়। এরপর আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল, যার প্রত্যক্ষ নমুনা জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখানে যৌথ অভিযান চালায়।

তিনি আরও বলেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাহারার মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা যে সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, তা ভেঙে দেওয়া হয়। তবে তথ্য ফাঁসের কারণে কিছু ক্ষেত্রে অভিযানের মূল লক্ষ্য শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র‍্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস সন্ত্রাসীরা কীভাবে পেয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার পেছনে থাকা ভূমিদস্যু ও মূল ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে।

জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ বেতুয়া ও চা বাগান এলাকা সন্ত্রাসমুক্ত করার কথাও জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। জনগণকে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন কারণে যারা এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন বা স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাঁদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না।’

প্রকৃত বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেবে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ উচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।

জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র পর্যালোচনা করে এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সেনানিবাসের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কাজ চলছে। পাশাপাশি বায়েজিদ লিংক এলাকার খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের আটকে থাকা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটির মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি আলী হোসেন ফকির, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক ধরে এগোলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত দিকে পাহাড়ের ভেতর অবস্থিত সলিমপুর এলাকা। এটি জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর নামে দুটি অংশে বিভক্ত। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখানে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

সম্পর্কিত