মাজারের দিঘিতে কুমির ফেরাতে চান খাদেমরা, আসছে মানতের মুরগি-ছাগল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বাগেরহাট

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ২০: ৩৬
বাগেরহাটের মাজারে আসা মানতের মুরগি সংগ্রহ করছেন খাদেম। স্ট্রিম ছবি

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমির 'ধলা পাহাড়' ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন মাজারের খাদেমরা। এদিকে দিঘিতে কুমির না থাকলেও ভক্তরা এখনও নিয়ে আসছেন মানতের মুরগি-ছাগল।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী দু-একদিনের মধ্যে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

এর আগে গতকাল বুধবার (৩ জুন) খাদেমদের এক আলোচনা সভায় আন্দোলনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফকির তরিকুল ইসলাম বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান।

তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৫০০ বছর ধরে খানজাহান আলী (রহ.) মাজার ও দিঘিতে থাকা কুমিরের দেখভাল করছেন ফকিররা। এর প্রধান আকর্ষণ কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ায় মাজারকেন্দ্রিক হোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের দিঘির প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যায় কুমির। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ গত সোমবার (১ জুন) রাতে মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার মারা যায়।

এসব প্রসঙ্গ টেনে মাজারের প্রধান খাদেম বলেন, 'আমরা মাজারের নিরাপত্তার জন্য আটজন দারোয়ান নিয়োগ দিয়েছি। একটি দুর্ঘটনার কারণে শত বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস মুছে ফেলা হবে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।'

কুমির নেই, আসছে মানতের মুরগি-ছাগল

এর আগে শিশু ফাতেমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় মাজারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য দিঘিতে থাকা কুমিরটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে মাজারের পূর্ব পাড়ের একটি ডোবা থেকে কুমিরটি ধরেন বন বিভাগের সদস্যরা। পরে সেটিকে খুলনার বয়রায় অবস্থিত বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে মাজারের দিঘিতে কুমির না থাকলেও মানত পূরণের আশায় তাকে খাওয়াতে হাঁস, মুরগি ও ছাগল নিয়ে আসছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। তাদের দেওয়া এসব মানতের প্রাণী সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে মাজারের খাদেমদের।

জেলার মোল্লাহাট উপজেলার কাচনা গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, 'শুনেছি এখন মাজারে আর কুমির নেই। তারপরও মানত ছিল, আশা পূরণ হলে মাজারে একটি মুরগি দেব। তাই মুরগিটি দিঘিতে ছেড়ে দিয়েছি। পরে দেখলাম একজন সেটি তুলে নিয়ে গেল। মুরগিটি কুমির খাক বা মানুষ খাক, এতে আমার কিছু যায় আসে না।'

খুলনা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, মাজার থেকে আনা কুমিরটি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। এটি একটি মিঠাপানির কুমির। তাই এটি কোনোভাবেই সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে না। সুন্দরবনের লবণাক্ত পানিতে এ ধরনের কুমির বাঁচতে পারবে না।

ডিএফও আরও বলেন, তারা চেষ্টা করছেন কুমিরটিকে তার উপযোগী পরিবেশে রাখার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে কোথায় রাখা বা অবমুক্ত করা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত