পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১০ জনের মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, চুয়াডাঙ্গা, নাটোর

দেশের পাঁচ জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষকসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চুয়াডাঙ্গা, পঞ্চগড়, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঁচজনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতে তিন নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন এবং মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল বাড়ি সংলগ্ন আমবাগানে আম কুড়াতে গিয়ে মারা যান।

এ ছাড়া সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ বৃষ্টির মধ্যে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম মাঠে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে মারা যান।

ময়মনসিংহে মৃত্যু ২

এদিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও গফরগাঁও উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রঘুনাথপুর রৌহাসচর গ্রামের বাসিন্দা ও গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ এস এম খালেকুল আজাদ (৫৬) এবং গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের লামকাইন গ্রামের রুকুন উদ্দিনের ছেলে সিয়াম (১৮)।

মুক্তাগাছায় খালেকুল আজাদ একটি মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকি করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে আমগাছের নিচে আশ্রয় নেন এবং সেখানে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। অন্যদিকে গফরগাঁওয়ের সিয়াম জমিতে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

চুয়াডাঙ্গায় যুবকের মৃত্যু, আহত এক

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামে বজ্রপাতে জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে শান্ত (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় লিটন আলীর ছেলে নাহিদ হোসেন (২৮) নামের আরেক যুবক আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনেরা জানান, সন্ধ্যায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে মেঘের গর্জন শুরু হলে নাহিদ ও শান্ত ছাদের ওপর ছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ছাদের পাশের একটি গাছে আগুন লাগে এবং দুজনই আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড়ে ট্রাক্টর সহকারীর মৃত্যু

পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শাহাদাত ওই এলাকার কেরামত আলীর ছেলে এবং পেশায় ট্রাক্টরের সহকারী ছিলেন। বিকেলে ফসলি জমি থেকে ভুট্টা পরিবহনের সময় ট্রাক্টরের চাকা নরম মাটিতে দেবে যায়। এ সময় বেলচা আনতে বাড়িতে যান শাহাদাত। বেলচা নিয়ে ঘটনাস্থলে ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাটোরে যুবকের মৃত্যু

নাটোরের সিংড়া উপজেলার লালোর ইউনিয়নের বড় বারৈহাটি গ্রামে বজ্রপাতে মধু আলী (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত মধু ওই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার কিছু আগে ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে স্থানীয় যুবক মধু গরু আনতে বাড়ির পাশে খোলা মাঠে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে কর্তব্যরত চিকিৎসক মধুকে মৃত ঘোষণা করেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত