চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ ৭ জনের মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষকসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বৃষ্টির সময় জেলা দুটির পাঁচ উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতে তিন নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলাতেই মারা গেছেন তিনজন। আজ বিকেলে বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হলে তারা মারা যান। সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ, শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলী ছেলে মো. মেসবাউল ও নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান বলেন, শিবগঞ্জের তিনজনই মারা গেছেন বাড়ি সংলগ্ন আমবাগানে। বৃষ্টির মধ্যে বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে মারা যান তারা। ওই তিনজনের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, সদর উপজেলার আতাহারে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে গরু আনতে যান আব্দুল্লাহ। এ সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া নাচোল উপজেলার লাহপাড়ায় মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে মারা যান সুমিয়ারা বেগম। নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

সদর ও নাচোল উপজেলায় মৃতদের পরিবারকেও ২৫ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও গফরগাঁও উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ দুপুরে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রঘুনাথপুর রৌহাসচর গ্রামের বাসিন্দা ও গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ এস এম খালেকুল আজাদ (৫৬) এবং গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের লামকাইন গ্রামের রুকুন উদ্দিনের ছেলে সিয়াম (১৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজ গ্রামের একটি মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন খালেকুল আজাদ। দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে সঙ্গে বজ্রপাতও হয়। এ সময় অন্যরা নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও তিনি পাশের একটি আমগাছের নিচে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সায়েম তানভীর জানান, বজ্রপাতে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের লামকাইন গ্রামে কৃষিকাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন সিয়াম। স্থানীয়রা জানান, দুপুরে নিজ জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ আকাশ মেঘলা হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত