চার দাবিতে কর্মবিরতিতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৩৫
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলন। সংগৃহীত ছবি
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলন। সংগৃহীত ছবি

মারধরের ঘটনায় চার দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তাঁরা এ ঘোষণা দেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বলেন, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে মামলা দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগী মারা যাওয়ার পর তাঁর স্বজনেরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন। মারা যাওয়া রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।

চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। রাত ১০টার দিকে রোগী মারা যাওয়ার পর স্বজনেরা হামলা চালান।

তাঁরা দাবি করেন, এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের আঘাত গুরুতর।

ব্রিফিংয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা, হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া এবং একজন রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি স্বজন বা অ্যাটেনডেন্ট থাকতে না দেওয়া।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ, অর্পণ দত্ত, মেহেরুপ হোসেন পৃথিবী ও আহসান জারিফ।

ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন আহাদ আলী বলেন, এমন অপ্রীতিকর ঘটনা আর চাই না। এখানে চিকিৎসকদের নিরাপত্তিা নিশ্চিতসহ রোগীর শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শজিমেক হাসপাতাল বগুড়া উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানান, ইনটানদের কর্মবিরতিতে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়নি, মিডলেভেল চিকিৎসক, সহকারী অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, সমস্যা সমাধানে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চিকিৎসক, নার্স, কর্তৃপক্ষ, রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত