৬ মাসে ৫১২ গুমের দাবি

ভুল স্বীকার করলেন জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৫১২ জন গুমের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তবে, স্ট্রিমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তার ওই বক্তব্য ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি। আযাদ বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার সময় অপহরণের জায়গায় ভুলবশত গুম শব্দটি বলে ফেলেছিলাম।’

সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান ও মানবাধিকার সংস্থার নথি যাচাই করে দেখা যায়, ৫১২ সংখ্যাটি গুম হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা নয়। বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে ৫১২টি অপহরণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

৫১২ সংখ্যাটি অপহরণ মামলার

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যান পাতায় প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনগুলোর ‘মোট’ সারির ‘অপহরণ’ কলাম যাচাই করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৬৪, মার্চে ১০২, এপ্রিলে ৯৪, মে মাসে ৯০, জুনে ৯০ এবং জুলাইয়ে ৭২টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ছয় মাসের সংখ্যাগুলো যোগ করলে মোট মামলা হয় ৫১২টি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে ২৩ আগস্ট প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনেও ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫১২টি অপহরণ মামলার কথা বলা হয়েছে।

 মাস অপহরণ মামলা পুলিশের নথি
 ফেব্রুয়ারি ৬৪Crime Statistics, February 2026
 মার্চ ১০২Crime Statistics, March 2026
 এপ্রিল  ৯৪Crime Statistics, April 2026
 মে ৯০Crime Statistics, May 2026
 জুন ৯০Crime Statistics, June 2026
জুলাই ৭২Crime Statistics, July 2026

মোট: ৫১২ (ছয় মাসের যোগফল)

উৎস: বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক Crime Statistics প্রতিবেদন।

অপহরণ ও গুম এক নয়

জাতিসংঘের বলপূর্বক অন্তর্ধান থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় এজেন্ট বা রাষ্ট্রের অনুমোদন, সমর্থন বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণ করার পর তার স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করা কিংবা ওই ব্যক্তির অবস্থান গোপন করা হলে তাকে গুম (enforced disappearance) বলা হয়।

এদিকে, অপহরণ হলো কোনো ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়া বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে নিয়ে যাওয়া, আটক রাখা অথবা তার চলাফেরার স্বাধীনতা হরণ করা।

মানবাধিকার সংস্থার নথিতে অভিযোগ একটি

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত নথিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে কথিত গুমের একটি অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ।

গত ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মণি ঠোটা গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ শেখকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদনেও মিরাজ শেখের ঘটনাকে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম গুমের অভিযোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত