মিরপুরে দেয়ালধসে ৩ মৃত্যু
আবদুল্লাহ কাফি

রাজধানীর মিরপুর কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির চারদিক দেয়ালে ঘেরা। বহু বছরের পুরোনো ও দুর্বল এই সীমানাপ্রাচীর ধসেই মারা গেছেন ৩ জন। মারা যাওয়া তিনজনই ছিলেন পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তি। তাদের হারিয়ে পথে বসতে চলেছে এসব পরিবার।
এদিকে দেয়ালটি নির্মাণে ত্রুটি ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, আগে সীমানা প্রাচীরটিতে ৩-৪ ফুট উচ্চতার ইটের গাঁথুনি ছিল। ওপরে ছিল লোহার গ্রিল। পরে গ্রিল সরিয়ে পুরোনো দেয়ালের ওপর আবার নতুন করে ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়। তবে নতুন করে উঁচু করা অংশে রড-কংক্রিটের কোনো কলাম দেওয়া হয়নি।
২০০২ সালে মিরপুর কলেজে পড়তেন মোহাম্মদ সুজন সরকার। বর্তমানে তিনি কলেজ এলাকায় ইন্টারনেটের ব্যবসা করেন। স্ট্রিমকে সুজন বলেন, ‘আমি যখন পড়তাম, তখনো এই দেয়ালটি ছিল। তবে উচ্চতা কম ছিল। পরে পুরোনো দেয়ালের ওপর নতুন গাঁথুনি দিয়ে উঁচু করা হয়।’

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে দেয়ালটি হেলে গেলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম স্ট্রিমকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে ভূমিকম্পে দেয়ালটি কিছুটা হেলে যায়। তবু সংস্কার করা হয়নি।’
প্রাথমিক তদন্তেও দেয়াল নির্মাণে ত্রুটি ছিল বলে জানান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফ। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে দেয়ালটি করেছিল। নিচে থাকা পুরোনো দেয়ালটিতে কলাম থাকলেও ওপরে তোলা অংশে ছিল না। তাই সেটিকে আমরা ত্রুটি বলছি। খুব সম্ভবত এ কারণেই দেয়ালটি ধসে পড়েছে।’
মিরপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইফফাত আজমী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি এখানে যোগ দিয়েছি মাত্র ১ মাস আগে। আগে এখানে কী হয়েছে, সেটি বলতে পারব না।’
বরাদ্দ পেলেও হয়নি সংস্কার
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সীমানাপ্রাচীর ও প্রধান ফটক সংস্কারের জন্য ২০২২ সালে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু ৪ বছরেও সেই কাজ শুরু হয়নি।
অবশ্য নির্ধারিত বরাদ্দে এত কাজ করা সম্ভব ছিল না বলে দাবি করেছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মনজুরুল আলম শরীফ। তিনি বলেন, ‘ওই সময় কাজটি হয়নি। পরে চলতি অর্থবছরে আবার ২৬ লাখ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মোট ৪৬ লাখ টাকা দিয়ে তাদের ডিজাইন অনুযায়ী গেট তৈরি করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২২ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষকে আমরা দেয়াল তৈরির কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা দেয়ালের প্রয়োজন নেই বলে জানান।’
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, কলেজের পেছনের পুরো দেয়ালটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভেঙে ফেলা অংশটুকুতে দেওয়া হয়েছে টিনের বেড়া। কিছু অংশ ক্রাইম সিন হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে পুলিশ।

অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা পরিবার
গত মঙ্গলবার দুপুরে ওএমএসের (খোলাবাজারে বিক্রি) ট্রাক থেকে কম দামে নিত্যপণ্য কিনতে আসেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। অপেক্ষমাণ এসব মানুষের মধ্যে কেউ বসে ছিলেন দেয়ালে হেলান দিয়ে, কেউ ছিলেন দাঁড়িয়ে। হঠাৎ উঁচু প্রাচীরটি ধসে পড়ে তাদের ওপর। এ ঘটনায় তিনজন মারা যান। আহত ৯ জন চিকিৎসাধীন।
নিহতদের একজন নাসিমা আক্তার। স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে, মা ও আরেক ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে থাকতেন মিরপুরের জনতা হাউজিংয়ে। সেখানকার ইউসেপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন।
নাসিমা আক্তারের মা শাহিদা বেগম স্ট্রিমকে বলেন, ‘মেয়েটা সারাদিন কাজ করত। ছুটি তো নিতই না, উল্টো ওভারটাইম করত। দুপুরের খাবারের সময় চাল কিনতে সে ওখানে যেত। কিন্তু এই ঘটনা ঘটবে জানলে তাকে যেতে দিতাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কাজ করতে পারি না। তার টাকাতেই চলতাম। আমার জীবনে নাসিমা ছিল বটগাছ। সেই বটগাছের ছায়াটি আমার মাথার ওপর থেকে সরে গেছে। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব!’
বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন বিউটি বেগম (৫০)। তার স্বামী নূর মুহাম্মদ রিকশা চালান। তাদের এক ছেলে আর ২ জন মেয়ে। কাজের ফাঁকে গিয়েছিলেন চাল কিনতে।
বিউটির লাশ দাফন করতে সবাই গ্রামে গেছেন। মুঠোফোনে নূর মুহাম্মদ বলেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ। এই বয়সে কেউ ঢাকা যায় না। আর খুব শখ করে কেউ নিজের স্ত্রীকে আরেকজনের বাসায় কাজ করতেও পাঠায় না। কিন্তু আমার অনেক ঋণ। সেই ঋণ শোধ করতে ৫-৬ মাস আগে ঢাকা যাই। এখন তাকে হারিয়ে আরও ঋণের মধ্যে পড়ে গেলাম।’

মারা যাওয়া আরেকজন মো. ফিরোজ। মিরপুর ১ নম্বরের নবাবেরবাগে পরিবার নিয়ে থাকতেন। চালাতেন পায়ের রিকশা। তার ঘর আলো করে ছিল দুই মেয়ে। চার সদস্যের পরিবারে তিনি ছিলেন একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। রিকশা চালানোর ফাঁকে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাকের লাইনে। কিন্তু সেই খাদ্যপণ্য আর কিনতে পারেননি তিনি। তার চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে গেছেন তার স্ত্রী সাঈদা বেগম।
স্থানীয় দুজনকে নিয়ে স্বামীর লাশ দাফন করতে বগুড়া গেছেন তিনি। সঙ্গে যাওয়া পারভেজ নামে এক যুবক জানান, সাঈদা কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। ক্ষণে জ্ঞান হারাচ্ছেন আবার ক্ষণে সুস্থ হচ্ছেন পরিস্থিতি তার।
বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি
দেয়াল ধসের এই ঘটনার কারণ হিসেবে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা। এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তারা।
নাসিমা আক্তারের ছোট ভাই মোহাম্মদ রাজু হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে তিনজন লোক মারা গেল। এ জন্য তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
নাসিমার মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘নাসিমা চলে গেছে। এখন তার পরিবার কীভাবে বাঁচবে? কে ইনকাম করে আনবে? এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাই।’
কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে ইফফাত আজমী বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর নিহতের লাশ বাড়ি পৌঁছাতে ফ্রিজার ভ্যান ও গাড়ির ব্যবস্থা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আমি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। কলেজের পরিচালনা পর্ষদ সভায় বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’ ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেয়াল ধসে ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘নিহতদের পরিবার দাফনকার্য নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তারা ফিরে এলে মামলা হতে পারে। এ ছাড়া দেয়ালটি কেন ধসে পড়ল, সে ব্যাপারে আমরা তদন্ত করছি।’

রাজধানীর মিরপুর কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির চারদিক দেয়ালে ঘেরা। বহু বছরের পুরোনো ও দুর্বল এই সীমানাপ্রাচীর ধসেই মারা গেছেন ৩ জন। মারা যাওয়া তিনজনই ছিলেন পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তি। তাদের হারিয়ে পথে বসতে চলেছে এসব পরিবার।
এদিকে দেয়ালটি নির্মাণে ত্রুটি ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, আগে সীমানা প্রাচীরটিতে ৩-৪ ফুট উচ্চতার ইটের গাঁথুনি ছিল। ওপরে ছিল লোহার গ্রিল। পরে গ্রিল সরিয়ে পুরোনো দেয়ালের ওপর আবার নতুন করে ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়। তবে নতুন করে উঁচু করা অংশে রড-কংক্রিটের কোনো কলাম দেওয়া হয়নি।
২০০২ সালে মিরপুর কলেজে পড়তেন মোহাম্মদ সুজন সরকার। বর্তমানে তিনি কলেজ এলাকায় ইন্টারনেটের ব্যবসা করেন। স্ট্রিমকে সুজন বলেন, ‘আমি যখন পড়তাম, তখনো এই দেয়ালটি ছিল। তবে উচ্চতা কম ছিল। পরে পুরোনো দেয়ালের ওপর নতুন গাঁথুনি দিয়ে উঁচু করা হয়।’

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে দেয়ালটি হেলে গেলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম স্ট্রিমকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে ভূমিকম্পে দেয়ালটি কিছুটা হেলে যায়। তবু সংস্কার করা হয়নি।’
প্রাথমিক তদন্তেও দেয়াল নির্মাণে ত্রুটি ছিল বলে জানান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফ। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে দেয়ালটি করেছিল। নিচে থাকা পুরোনো দেয়ালটিতে কলাম থাকলেও ওপরে তোলা অংশে ছিল না। তাই সেটিকে আমরা ত্রুটি বলছি। খুব সম্ভবত এ কারণেই দেয়ালটি ধসে পড়েছে।’
মিরপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইফফাত আজমী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি এখানে যোগ দিয়েছি মাত্র ১ মাস আগে। আগে এখানে কী হয়েছে, সেটি বলতে পারব না।’
বরাদ্দ পেলেও হয়নি সংস্কার
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সীমানাপ্রাচীর ও প্রধান ফটক সংস্কারের জন্য ২০২২ সালে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু ৪ বছরেও সেই কাজ শুরু হয়নি।
অবশ্য নির্ধারিত বরাদ্দে এত কাজ করা সম্ভব ছিল না বলে দাবি করেছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মনজুরুল আলম শরীফ। তিনি বলেন, ‘ওই সময় কাজটি হয়নি। পরে চলতি অর্থবছরে আবার ২৬ লাখ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মোট ৪৬ লাখ টাকা দিয়ে তাদের ডিজাইন অনুযায়ী গেট তৈরি করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২২ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষকে আমরা দেয়াল তৈরির কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা দেয়ালের প্রয়োজন নেই বলে জানান।’
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, কলেজের পেছনের পুরো দেয়ালটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভেঙে ফেলা অংশটুকুতে দেওয়া হয়েছে টিনের বেড়া। কিছু অংশ ক্রাইম সিন হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে পুলিশ।

অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা পরিবার
গত মঙ্গলবার দুপুরে ওএমএসের (খোলাবাজারে বিক্রি) ট্রাক থেকে কম দামে নিত্যপণ্য কিনতে আসেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। অপেক্ষমাণ এসব মানুষের মধ্যে কেউ বসে ছিলেন দেয়ালে হেলান দিয়ে, কেউ ছিলেন দাঁড়িয়ে। হঠাৎ উঁচু প্রাচীরটি ধসে পড়ে তাদের ওপর। এ ঘটনায় তিনজন মারা যান। আহত ৯ জন চিকিৎসাধীন।
নিহতদের একজন নাসিমা আক্তার। স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে, মা ও আরেক ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে থাকতেন মিরপুরের জনতা হাউজিংয়ে। সেখানকার ইউসেপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন।
নাসিমা আক্তারের মা শাহিদা বেগম স্ট্রিমকে বলেন, ‘মেয়েটা সারাদিন কাজ করত। ছুটি তো নিতই না, উল্টো ওভারটাইম করত। দুপুরের খাবারের সময় চাল কিনতে সে ওখানে যেত। কিন্তু এই ঘটনা ঘটবে জানলে তাকে যেতে দিতাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কাজ করতে পারি না। তার টাকাতেই চলতাম। আমার জীবনে নাসিমা ছিল বটগাছ। সেই বটগাছের ছায়াটি আমার মাথার ওপর থেকে সরে গেছে। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব!’
বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন বিউটি বেগম (৫০)। তার স্বামী নূর মুহাম্মদ রিকশা চালান। তাদের এক ছেলে আর ২ জন মেয়ে। কাজের ফাঁকে গিয়েছিলেন চাল কিনতে।
বিউটির লাশ দাফন করতে সবাই গ্রামে গেছেন। মুঠোফোনে নূর মুহাম্মদ বলেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ। এই বয়সে কেউ ঢাকা যায় না। আর খুব শখ করে কেউ নিজের স্ত্রীকে আরেকজনের বাসায় কাজ করতেও পাঠায় না। কিন্তু আমার অনেক ঋণ। সেই ঋণ শোধ করতে ৫-৬ মাস আগে ঢাকা যাই। এখন তাকে হারিয়ে আরও ঋণের মধ্যে পড়ে গেলাম।’

মারা যাওয়া আরেকজন মো. ফিরোজ। মিরপুর ১ নম্বরের নবাবেরবাগে পরিবার নিয়ে থাকতেন। চালাতেন পায়ের রিকশা। তার ঘর আলো করে ছিল দুই মেয়ে। চার সদস্যের পরিবারে তিনি ছিলেন একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। রিকশা চালানোর ফাঁকে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাকের লাইনে। কিন্তু সেই খাদ্যপণ্য আর কিনতে পারেননি তিনি। তার চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে গেছেন তার স্ত্রী সাঈদা বেগম।
স্থানীয় দুজনকে নিয়ে স্বামীর লাশ দাফন করতে বগুড়া গেছেন তিনি। সঙ্গে যাওয়া পারভেজ নামে এক যুবক জানান, সাঈদা কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। ক্ষণে জ্ঞান হারাচ্ছেন আবার ক্ষণে সুস্থ হচ্ছেন পরিস্থিতি তার।
বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি
দেয়াল ধসের এই ঘটনার কারণ হিসেবে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা। এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তারা।
নাসিমা আক্তারের ছোট ভাই মোহাম্মদ রাজু হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে তিনজন লোক মারা গেল। এ জন্য তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
নাসিমার মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘নাসিমা চলে গেছে। এখন তার পরিবার কীভাবে বাঁচবে? কে ইনকাম করে আনবে? এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাই।’
কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে ইফফাত আজমী বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর নিহতের লাশ বাড়ি পৌঁছাতে ফ্রিজার ভ্যান ও গাড়ির ব্যবস্থা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আমি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। কলেজের পরিচালনা পর্ষদ সভায় বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’ ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেয়াল ধসে ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘নিহতদের পরিবার দাফনকার্য নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তারা ফিরে এলে মামলা হতে পারে। এ ছাড়া দেয়ালটি কেন ধসে পড়ল, সে ব্যাপারে আমরা তদন্ত করছি।’
.png)

ভারতের মুম্বাই থেকে শাহিদা ফকির নামে এক ভারতীয় নারীকে আটক করে আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে। ২০ বছর ধরে পরিবারসহ মুম্বাইয়ে বসবাস করা ওই নারী এখন সাতক্ষীরার কলারোয়া সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামের আব্দুল মালেকের বাড়িতে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
৩ মিনিট আগে
আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ‘গুপ্ত দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাটে ‘জুলাই পথযাত্রা’ শেষে পথসভায় এ কথা বলেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামের নেটে একসময় যার ঘূর্ণি বলে পরাস্ত হতো ব্যাটসম্যানরা, আজ সেই হাতেই ঘুরছে অবৈধ অস্ত্র আর চাঁদাবাজির ফোন। ফটিকছড়ির প্রতিশ্রুতিশীল সেই লেগ স্পিনার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন অল্প সময়ে অপরাধ জগতের পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন।
১ ঘণ্টা আগে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা কোটি টাকার ১০১ কার্টন নিষিদ্ধ পণ্য আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
৩ ঘণ্টা আগে